কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:০৯ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তিন বিবস্ত্র নারীর ভাইরাল ছবি কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নারী নির্যাতনের ছবি দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে তিনজন বিবস্ত্র নারীর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে ছবিটি শেয়ার করে বলা হচ্ছে, এই তিন নারী বিবস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তানি ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছিলেন।

তবে এটি বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়কালের ছবি নয় বলে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচ।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে টিম জানায়, এই ছবি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নয়। এটি ১৯৪২ সালে জার্মানির একটি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে তোলা হয়েছিল।

ফেসবুকে প্রচারিত ছবির সাহায্যে অনুসন্ধান করে স্টক ছবির ওয়েবসাইট গেটি ইমেজে এটি পাওয়া যায়। সেখানে ছবির বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি ১৯৫৫ সালে ইতালিয়ান ম্যাগাজিন লাভোরোতে (Lavoro) প্রকাশিত হয়েছিল। ছবিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলোতে (Nazi concentration camps) চালানো নির্যাতনের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ম্যাগাজিনে ‘লেস্ট উই ফরগেট (Lest we forget)’ শিরোনামে ছবিটি প্রকাশ করেছিলেন আন্দো গিলার্ডি নামে একজন ফটোগ্রাফার ও সাংবাদিক।

পুনরায় অনুসন্ধানে, ফোটোটেকা-গিলার্দি নামে ঐতিহাসিক ছবি ও চিত্রের আর্কাইভে ছবিটি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। বলা হয়, এটি ১৯৪২ সালে জার্মানির একটি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে তোলা। ছবিটিতে থাকা বিবস্ত্র নারীরা ইউক্রেনের নাগরিক এবং ধর্ম বিশ্বাসে ইহুদি ছিলেন।

উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট, ছবিটির সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। ছবিটি মূলত ১৯৪২ সালে জার্মানির একটি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে তোলা।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেনের লাইভ টকশোতে গত ৫ জানুয়ারি কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার খুনের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর শরিফুল হক ডালিম নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি। এ সময় ইলিয়াস হোসেন মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ নারীর সম্ভ্রমহানির বিষয়টি জানতে চাইলে কথিত মেজর ডালিম বলেন, ‘আমি মাত্র দুজন নারীকে চিনি, যাদের সম্ভ্রমহানি হয়েছে।’

তার এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এসব আলোচনা-সমালোচনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী নির্যাতনের প্রকৃত সংখ্যাও। সরকারি হিসেবে যেটি দুই থেকে চার লাখ।

এরই প্রেক্ষিতে বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ানো ওই তিন নারীর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছবি। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দাবিটি মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ষড়যন্ত্রকারীদের রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা হবে: সিসিক প্রশাসক

নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলমন্ত্রী 

হামলা-লুটপাট আতঙ্কে ঘর ছাড়ছেন পাংশার মানুষ

জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে সাভারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আরও এক দেশ

বিদায়বেলায় সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা, মারার পরও চাওয়া হচ্ছিল মুক্তিপণ

বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেট অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যয়ের আহ্বান প্রজ্ঞার

সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে পেজেশকিয়ানের স্ট্যাটাস

১১

বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

১২

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া

১৩

‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’

১৪

কুষ্টিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১

১৫

ঢাকার পথে সিলেটের সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম

১৬

শসা তেঁতো কি না হাতে নিয়েই বুঝবেন যেভাবে

১৭

আটকে পড়া কাজ সহজ করতে বিশেষ ৪ আমল 

১৮

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে টুঙ্গিপাড়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা

১৯

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বাড়ায় তেলের দাম কমল

২০
X