কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪১ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কম্বলের জন্য চিকিৎসা আটকে দিল নিটোর হাসপাতাল 

নিটোর হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত
নিটোর হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত

কম্বলের জন্য চিকিৎসা আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানেরর (নিটোর) বিরুদ্ধে। শনিবার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন।

ভুক্তভোগী ওই রোগীর স্বজনের নাম ফখরুল ইসলাম। তিনি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার চিফ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার।

ফেসবুকে পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আমার বাবা, মো. আমিনুল ইসলাম, বর্তমানে নিটোর হাসপাতালের ভায়োলেট ১ ওয়ার্ডের ৬১৩ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন। ১৩ আগস্ট অপারেশনের পর অবজারভেশন কক্ষে দুপুরে চিকিৎসাজনিত কারণে অচেতন অবস্থায় তিনি বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করেন। এতে হাসপাতালের একটি কম্বল ও চাদর ময়লা হয়ে যায়। বিষয়টি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার কারণে হওয়া ঘটনা। তখন অবজারভেশন থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয় এবং বলা হয়— আপনার বাবাকে পরিষ্কার করে নিয়ে আসেন। পরে পুরো শরীর আমি এবং আমার আম্মা মিলে পরিষ্কার করি। তারপর আবারও অবজারভেশন কক্ষে পাঠিয়ে দেই আব্বাকে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, এ কক্ষে রোগীর স্বজন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যাইহোক, আব্বাকে কক্ষে দেওয়ার পর স্টাফরা জানান, হাসপাতালের ময়লা হওয়া কম্বল ও চাদর আমাকে পরিষ্কার করে দিতে হবে। আমি এতে অপারগতা প্রকাশ করি। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ আমাকে বারবার কম্বল ও চাদর ধুয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি বারবার বলেছি, এটা আমার দায়িত্ব নয়।

তিনি জানান, বরং হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগ ও লন্ড্রি সার্ভিসের কাজ এটি। তাদের মাধ্যমে সমাধান হওয়ার কথা। কিন্তু তারা ১৩ তারিখ রাত পর্যন্ত বিভিন্নভাবে বোঝাতে ও চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, যেন আমি নিজেই পরিষ্কার করি। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাদের বলি— আপনারা আমাকে এমন কাউকে দেন, যিনি পরিষ্কার করে দিতে পারবেন, এবং আমি তাকে পারিশ্রমিক দেব। তখন তারা বললেন— তাদের কাছে হাসপাতালে এমন কেউ নেই।

তিনি লিখেন, এবার শুরু হলো নতুন নাটক। ওই ময়লা কম্বল পরে চুরি হয়ে যায়! অথচ হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা কম্বল চুরি হওয়ার দায়ও এখন আমার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে! কয়েকজন স্টাফ একাধিকবার আমার কাছে এসে চুরি হওয়া কম্বলের দাম পরিশোধ করতে বলেন। আমি স্পষ্ট করে বলেছি— এই দায় আমার বা আমার পরিবারের নয়।

ফখরুল লিখেন, সবশেষ ১৩ আগস্ট রাতে আমাকে স্টাফরা জানান, আগামীকাল (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় অবজারভেশন কক্ষের ইনচার্জের সঙ্গে দেখা করে মীমাংসা করবেন। আমি বললাম— ঠিক আছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৪ আগস্ট ভোর ৫টায় ঘটে ভয়ংকর এক ঘটনা। শুরুতে ভায়োলেট ১ থেকে আমাকে বলা হলো— অবজারভেশন কক্ষ থেকে আপনার আব্বাকে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের ট্রলিম্যানসহ (সঠিক কী পদ বলে জানা নেই) আব্বাকে আনতে যাই। অন্যান্য বেশিরভাগ রোগীকে বের করে আনলেও হাসপাতালের সেই কক্ষের স্টাফরা আমাকে সরাসরি জানিয়ে দেয়— ‘এই কম্বলের বিষয় মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আপনার বাবাকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হবে না।’ এর মানে, শুধু কম্বলের জন্য একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা সেবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে! আমি জানতে চাইলাম— এ আদেশ কে দিয়েছেন? তারা জানালো— গতকাল যারা রাত পর্যন্ত ডিউটি করেছেন তারা বলে গিয়েছেন। জানতে চাইলাম— তারা কারা? বলল— ইনচার্জ জানে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখানেই ঘটনার শেষ নয়, সকালবেলায় অবজারভেশন কক্ষের স্টাফরা হঠাৎ বলে— ‘আপনার আব্বার শরীর ভিজে গেছে, শুকাতে হবে।’ আমি কারণ জানতে চাইলে প্রথমে বলে, স্যালাইন থেকে পানি পড়ে ভিজেছে। কিন্তু পরে বাবার কাছে শুনে স্তব্ধ হয়ে যাই— তিনি প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে পানির উপর শুয়ে ছিলেন, কেউ এসে পরিষ্কার বা শুকানোর ব্যবস্থা করেনি! ঠান্ডা এসি রুমে একজন রোগীকে এভাবে ফেলে রাখা নিছক অবহেলা নয়, এটি অমানবিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ফখরুল ইসলাম জানান, সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে হাসপাতালের সিনিয়র একজন কনসালট্যান্টের কাছে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা ইনচার্জকে কল করেন। পরবর্তীতে আমাকে ৮টা ১৫ মিনিটে ওই ইনচার্জ ডেকে নেন। তিনি বিষয়টির শুরু থেকে জানতে চান। আমি ঘটনার বিস্তারিত বলি এবং জানতে চাই— হাসপাতাল যেখানে রোগীকে সেবা দেবে, সেখানে রোগী বা রোগীর স্বজনই কি উল্টো কম্বল পরিষ্কার কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে হাসপাতালকে সেবা দেবে? বলার পর তিনি বলেন— আমাদের (রোগীর) এখানে অন্যায় বা ভুল হয়নি। হাসপাতালের স্টাফরা ভুল করেছেন। গতকাল থেকে যা যা হয়েছে, তার জন্য দুঃখিত বলে আমাকে জানান। তারা আমাকে অনুরোধ করেন— এ ঘটনা যেনো হাসপাতাল পরিচালক কিংবা অন্য কাউকে না জানাই। আমি বলেছি— দুঃখপ্রকাশে সব সমস্যার সমাধান হয় না। এটি অপরাধ; যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তি পেতে হবে। এই বলে আলোচনা শেষ হয় এবং আমার সাথে সকাল প্রায় ৯টায় আব্বাকে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওয়ার্ডে আসার পর অবজারভেশন কক্ষের দুইজন স্টাফ গোপনে আমাকে স্পষ্ট জানান— ইনচার্জ ও নার্সদের নির্দেশেই আমার আব্বার চিকিৎসায় অবহেলা ও আমাকে হয়রানি করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একজন রোগী হাসপাতালের স্টাফদের দ্বারা এমন হয়রানির শিকার হতে পারে— এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। আমার বাবা চিকিৎসার জন্য এসেছেন, কিন্তু এখন তিনি চিকিৎসার বদলে অবহেলা, চাপ ও অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন। আমি এর দ্রুত সমাধান এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিক্ষোভের মধ্যে বড় ঘোষণা ইরানের প্রেসিডেন্টের

ভারতে আম্পায়ারিংয়ে শরফদ্দৌলা, যা বলছে বিসিবি

হজ ফ্লাইট নিয়ে নতুন নির্দেশনা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ

সৌরভ গাঙ্গুলিকে ছাড়িয়ে গেলেন কোহলি

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন কাজী রফিকুল

২০০ টাকায় দেখা যাবে বিপিএলের ঢাকা পর্বের ম্যাচ

বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন শান্ত

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পাঠাও চালকের মৃত্যু

গণভোটের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে : আলী রিয়াজ

১০

আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না : ঐন্দ্রিলা

১১

গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ ট্রাম্পের

১২

ড. ইউনূস নির্বাচনের পর কী করবেন, জানাল প্রেস উইং

১৩

বিইউবিটিতে ‘হাল্ট প্রাইজ’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

১৪

ঢাবি শিক্ষক গোলাম রাব্বানির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির দাবিতে স্মারকলিপি 

১৫

ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি

১৬

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

১৭

আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপের দাম বাড়ছে, দেশে এমএস রডের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

১৮

বাবা-ছেলেকে একাদশে রেখে অনন্য কীর্তি নোয়াখালীর

১৯

তদন্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল : প্রাথমিকের ডিজি

২০
X