

ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্য ও বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তারা দুঃখ প্রকাশ করছে এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
বিবৃতিতে বিসিবি স্বীকার করেছে, ওই মন্তব্যে ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ড পুনর্ব্যক্ত করেছে—ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান, পেশাদারিত্ব এবং খেলাটির মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিসিবি জানায়, একটি সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে তারা আবেগ বা চাপের বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও পদ্ধতির মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাকে একটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত জবাব পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই বিসিবি আলাদা করে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-কে। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বিপিএল টি-টোয়েন্টি ২০২৬ এখন শেষ ধাপে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিসিবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, বিপিএলের পাশাপাশি দেশের সব ক্রিকেট কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেটাররাই। খেলোয়াড়দেরই তারা এই টুর্নামেন্টের ‘প্রধান অংশীদার’ এবং ‘প্রাণশক্তি’ হিসেবে দেখছে।
বিবৃতির শেষাংশে বোর্ড আশাবাদ ব্যক্ত করে জানায়, ক্রিকেটাররা তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবেন। বিসিবির বিশ্বাস, সকল পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণই বিপিএল ২০২৬-এর ধারাবাহিকতা ও সাফল্য নিশ্চিত করবে।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের টানাপোড়েন সামাল দিয়ে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তাই দিতে চেয়েছে বিসিবি—একদিকে শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে টুর্নামেন্টের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান।
মন্তব্য করুন