তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা’ শীর্ষক রিজিওনাল ডিজাইন বুটক্যাম্প শুরু করেছে গ্রামীণফোনের ফ্ল্যাগশিপ স্টার্টআপ ইনোভেশন প্ল্যাটফর্ম ‘জিপি এক্সেলারেটর’।
আজ বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সমাজ সংগঠক, স্ট্যার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, জিপি এক্সেলারেটর (জিপিএ)’এর এলামনাই, সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষক সহ নানা খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ও অংশীজনদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আঞ্চলিক পর্যায়ে আয়োজনটির সফল ও কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিতে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে থাকছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমানের সভাপতিত্বে এক প্যানেল আলোচনায় পলকের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, শেয়ার ট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আশিকুর রহমান, দ্যা লিগ্যাল সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা আনিতা গাজী রহমান।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশবের (বিটিআরসি) কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সামি আহমেদ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা’ শীর্ষক এই আয়োজন মূলত আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা ও স্থানীয়ভাবে নানা সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করবে। ৩০ জন কমিউনিটি বিল্ডারের সমন্বয়ে এবং দেশের ২০টি অঞ্চলে পিচ সেশনের মাধ্যমে আয়োজনটি সেরা ২০ জন ‘উদ্যোক্তা’ খুঁজে বের করবে এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করবে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদেরকে বিবেচনায় রেখে এই আয়োজনটি ডিজাইন করা হয়েছে। উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী তরুণদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন, নেটওয়ার্কিং এবং ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সহযোগীতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবে রিজিওনাল ডিজাইন বুটক্যাম্প।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের আইসিটি বাজার তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা আছে আমাদের। সেই সাথে এই সময় নাগাদ ৫০টা মিলিয়ন ডলার দেশীয় স্ট্যার্টআপ গড়ে তুলতে চাই। জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা তৈরি করতে আমরা কাজ করছি। আইডিয়া প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জিপি একসেলারেটর এ যেসব উদ্যোক্তা আসবে, বুটক্যাম্পের পর যারা সফল হবে তাদেরকে আমরা আইডিয়া থেকে অনুদান দেবো, হাইটেক পার্কে অফিস স্পেস বরাদ্দ দেবো। সাহস অনুপ্রেরণা ও সুযোগ থাকলেও স্মার্ট উদ্যোক্তা হওয়া যায়।
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে গ্রামীণফোন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জিপি এক্সেলারেটর আমাদের এই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। ‘জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা’ শীর্ষক রিজিওনাল ডিজাইন বুটক্যাম্প সারা দেশে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে আমাদের চলমান প্রচেষ্টার নতুন একটি ধাপ। এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়াগুলো উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে বলে আমরা আশাবাদী। এই বুটক্যাম্প হাজারো উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করার পাশাপাশি স্টার্টআপ কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে, যা সম্মিলিতভাবে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।
মন্তব্য করুন