কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা সংকট, ‘নতুন বলয়’ গড়ে তুলছে জাপান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুরক্ষার ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় নতুন করে বলয় গড়ে তুলছে জাপান। দেশটি তাদের দক্ষিণাঞ্চলের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। এজন্য সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। এমনকি উল্লেখযোগ্যহারে সামরিক ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপ আগ্নেয়গিরিময় প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং টনকাতসু রামেনের জন্য পরিচিত। কিন্তু এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রই এখন ১৯৪৭ সালের পর জাপানের প্রতিরক্ষা কৌশলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ওই বছরে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটানোর উপায় হিসেবে ত্যাগ করেছিল।

চলতি বছরের মার্চের শেষদিকে জাপান কুমামোটো প্রিফেকচারের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। আগের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চীনে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০১৯ সাল থেকে জাপান চীনকে তার সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। এমনকি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার থেকেও বেশি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাপান এখন সবচেয়ে জটিল ও কঠিন নিরাপত্তা পরিবেশের মুখোমুখি। আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা মবাড়াতে হবে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, ‘সাউদার্ন শিল্ড’ নামে পরিচিত এই নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলে জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (জেএসডিএফ) দক্ষিণ জাপান ও তার দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং বিমান শক্তি মোতায়েন করছে।

টোকিওর ইনস্টিটিউট অব জিওইকোনমিক্সের পরিচালক কাজুতো সুজুকি বলেন, পরিস্থিতির ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা কৌশল পুরোপুরি দক্ষিণ-পশ্চিমমুখী হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্ব কমে গেছে।

২০২৬ অর্থবছরে জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশই এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যয় হচ্ছে। এই কৌশলের মূল ফোকাস নানসেই বা রিউকিউ দ্বীপমালায় রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলটি কিউশু থেকে তাইওয়ানের ১০০ কিলোমিটারের মধ্য পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দ্বীপগুলো পূর্ব চীন সাগর ও ফিলিপাইন সাগরের মাঝে একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়াল গড়ে তুলেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর লক্ষ্য চীনের সামরিক বাহিনীকে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ থেকে বাধা দেওয়া।

আলজাজিরা জানিয়েছে, এই কৌশলের সূচনা শীতল যুদ্ধের সময় হয়েছিল। টোকিও এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালি নিয়ে জাপানের ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জনাথন পিং জানান, এই ‘সাউদার্ন শিল্ড’ কৌশলের লক্ষ্য হলো প্রবেশ-বাধা বা এলাকা-নিয়ন্ত্রণ স্তর তৈরি করা। ফলে চীন তাইওয়ান বা পূর্ব চীন সাগরের কাছে সামরিক অভিযান চালাতে গেলে তা তাদের জন্য জটিল হয়ে পড়বে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারিত্বের সময়ে জাপানের সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার প্রেক্ষাপটে জেএসডিএফ গড়ে ওঠে। শুরুতে এটি মূলত পুলিশ বাহিনীর সম্প্রসারণ ছিল এবং সদস্যদের ‘বিশেষ সরকারি কর্মচারী’ হিসেবে গণ্য করা হতো। শীতল যুদ্ধের সময় পর্যন্ত তারা মূলত মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাজ করত। তবে গালফ যুদ্ধের সময় জাপান যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিতে না পারায় দেশটির রাজনৈতিক নেতারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এরপর থেকেই জেএসডিএফের ভূমিকা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে।

গত এক দশকে জাপান সরকার সংবিধান পরিবর্তন না করেই এর ব্যাখ্যা বদলে জেএসডিএফের ক্ষমতা বাড়িয়েছে। ২০১৪ সালের এক সিদ্ধান্তে বলা হয়, জাপান তার মিত্রদের ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষা’র অংশ হিসেবে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ‘প্রতিআক্রমণ সক্ষমতা’ যুক্ত করা হয়। এর অংশ হিসেবে জাপান ৪০০টি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে, যা সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।

আলজাাজিরা জানিয়েছে, জাপান শিগগিরই ২০২৬-২০৩০ সময়কালের জন্য নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করবে। এতে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরানের অভিজ্ঞতা থেকে ড্রোন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে শিক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়া জাপান সম্প্রতি প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে এবং নিজস্ব ড্রোন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, জাপানের ৭৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক সংকটে জাপানকে রক্ষা করবে না। এই কারণে জাপান এখন ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর : সব ধরনের আয় করমুক্ত, থাকছে না ভ্যাটও

টেনিস টুর্নামেন্টে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন

বাজেট ২০২৬-২০২৭ / অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষিতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল চুরি করলেন আ.লীগ নেতা 

এক বছরের মধ্যে বাড়ি করতে পারবেন ঝিলমিল প্রকল্পের গ্রাহকরা: গণপূর্তমন্ত্রী

চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফের সঙ্গে বিএনপি নেতা হুদার বৈঠক

এমন প্রশ্ন করবেন না, বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেননি : স্পিকার

বিবিসির বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে যারা

বিশ্বকাপ জার্সিতে আরেক দেশের পতাকা, নেপথ্যে যে কারণ

১০

মেক্সিকো / বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

১১

ফাঁস হয়ে গেছে মেসিদের পাসপোর্ট

১২

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত

১৩

আমের হাটে ‘ঢলন’ সিন্ডিকেটে জিম্মি চাষি-ব্যবসায়ীরা

১৪

হেল্পলাইন ১০৯-এ কর্মরতরা ৩ বছর বেতন পান না : ডা. জাহিদ

১৫

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সাক্ষাৎ / বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজমন্ত্রী

১৬

রাজনৈতিক নেতার পাশবিকতার শিকার কিশোরী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা!

১৭

চায়না মিডিয়া গ্রুপের ৫ম সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

১৮

ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিত করতে ২ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

১৯

১৭ বছর আগে যার সঙ্গে খেলতেন, মেসি আজ খেললেন তার ছেলের বিপক্ষে

২০
X