কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:০৪ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানের সাহায্য নিতে অস্বীকার করল তালেবান

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আফগানিস্তান। ছবি : সংগৃহীত
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আফগানিস্তান। ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত প্রদেশে আঘাত হানা শক্তিশালী ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তালেবান সরকার। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাঠানো সাহায্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মূলত সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে উত্তেজনার কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই পাকিস্তান সরকার দ্রুত আফগানিস্তানে সাহায্য পাঠানোর পদক্ষেপ নেয়। এমনকি পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার প্রয়োজনীয় সাহায্যের পাশাপাশি ত্রাণ ও উদ্ধার দল পাঠানোর মাধ্যমে দ্রুত সহায়তার প্রস্তাব দেন। তবে পাকিস্তানের এই সহায়তা নিতে অস্বীকার করে কাবুল। যার ফলে পাকিস্তানের সাহায্যের চালান এবং উদ্ধারকারীদের আফগানিস্তানে পাঠানো হয়নি। এ বিষয়ে যদিও উভয় দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি, তারপরও দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আফগানিস্তানের সহায়তা প্রত্যাখ্যানের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত শনিবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর পাঁচটি বড় ধরনের আফটারশক হয়েছে; যার কেন্দ্রস্থল ছিল ওই অঞ্চলের বৃহত্তম শহরের কাছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, আঘাত হানা প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৩। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হেরাত শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ৫ দশমিক ৫, ৪ দশমিক ৭, ৬ দশমিক ৩, ৫ দশমিক ৯ ও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার পাঁচটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, হেরাত প্রদেশের রাজধানী হেরাত শহরে ১৯ লাখ মানুষের বসবাস। হেরাতের পূর্বাঞ্চলে ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ইরানের সঙ্গে। এই শহরটিকে আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে মনে করা হয়।

গত বছরের জুনে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। গত কয়েক দশকের মধ্যে আফগানিস্তানে সেটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প ছিল বলে সেই সময় জানায় দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় সাড়ে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে দুই দেশে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। হিন্দুকুশ পর্বতমালা ও ইউরেশীয়-ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার সঙ্গে কুর্দিশ নেতার ফোনালাপ

বিপিএল ফাইনালের সময় এগিয়ে আনল বিসিবি

খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে বলেছেন : রবিন

রুমিন ফারহানাকে শোকজ, সশরীরে হাজির না হলে ব্যবস্থা

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ে মরহুম ইয়াছিন আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিপুন রায়ের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন / সাইফুল হকের সঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মতবিনিময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের টিডিএফ উদ্যোক্তাদের রিফাইন্যান্সিং সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর

প্রার্থীকে বললেন নির্বাচন কমিশনার / ‘ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন, না দিলে জনরোষ তৈরি হবে’

১০

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ শতাধিক, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল যত

১১

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১২

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল ছাত্রদল

১৩

তসলিমা নাসরিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

১৪

তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ

১৫

২১ জানুয়ারির মধ্যেই ঠিক হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য

১৬

এশিয়ান টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

১৭

সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম

১৮

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর শোকজের জবাব দিল এনসিপি

১৯

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : নোমান

২০
X