সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৌদি তরুণী রিমা মান্না রশিদ। ২১ বছর বয়সী এ নারী আসির অঞ্চলে পারিবারিক ছুটিতে থাকার সময় একটি মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় তিনি তার ভাই-বোনদের উদ্ধার করতে গিয়ে বীরত্বের সঙ্গে নিজের প্রাণ হারান। অথচ, গ্রীষ্মের ছুটি শেষে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন চাকরি শুরু করার কথা ছিল তার। কিন্তু এ বিধ্বংসী ঘটনায় তিনি নিজেই মারা গেছেন।
শনিবার (৫ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন পরই সৌদি আরবের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রিমার। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনে যাচ্ছিলেন তিনি। গন্তব্য ছিল রিজাল আলমা প্রদেশের হাসওয়া নামে একটি গ্রাম। পথে একটি পাহাড়ি রাস্তায় তাদের বহন করা গাড়িটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
আরও পড়ুন : সৌদিতে গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় নতুন বিধান জারি
এ অবস্থায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য গাড়ি থেকে নেমে যান রিমার বাবা ও বড় ভাই। কিন্তু তারপরই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনাটি। গাড়িটি হঠাৎ পাহাড়ি ঢাল বেয়ে তীব্র বেগে ছুটতে শুরু করে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে গাড়িতে থাকা ছোট দুই ভাই-বোনকে অনেক চেষ্টায় বাইরে ছুড়ে মারেন রিমা। তবে ভাই-বোন বেঁচে গেলেও নিজে শেষ পর্যন্ত রেহাই পাননি। প্রায় ৪০০ মিটার নিচে গিয়ে আছড়ে পড়ে গাড়িটি এবং এটি তিন টুকরো হয়ে যায়। মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রিমা।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রিমার বাবা জানান, রিমা চাইলেই নিজেকে বাঁচাতে পারতেন। কারণ তিনি দরজার পাশেই বসে ছিলেন। তবে তিনি এটি না করে ছোট দুই ভাই-বোনের প্রাণ বাঁচানোকেই বেছে নিয়েছেন।
তার বাবা বলেন, ‘রিমা আমাদের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছে। আমার সাহসী কন্যা তার সময়ের মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। সে সবসময় তার ভাইদের গুরুত্ব দিত।'
মন্তব্য করুন