কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বৈঠক: মতবিরোধের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের একটি ‘মৌলিক মতবিরোধ’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন। হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বুধবারের বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।

রাসমুসেন জানান, বৈঠকটি ছিল খোলামেলা ও গঠনমূলক। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন, যা ডেনমার্কের কাছে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। তার ভাষায়, এটি ডেনমার্কের স্বার্থের সঙ্গে যায় না এবং তারা বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।

বৈঠকের পর ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং ন্যাটোর ভেতরেও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড বড় কোনো অগ্রগতিতে পৌঁছাতে পারেনি। তবে তিন পক্ষই গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কর্মদল গঠনে সম্মত হয়েছে। রাসমুসেন বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই কর্মদলের বৈঠক হবে এবং সমঝোতার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও জানান, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। তার মতে, উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু করাটাই ইতিবাচক।

তবে রাসমুসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা সত্যতা রয়েছে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রাশিয়া ও চীনের যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত উপস্থিত থাকার দাবি তিনি সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন।

কম জনসংখ্যার হলেও গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং নৌযান পর্যবেক্ষণে দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে।

বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও সহযোগিতায় তারা আগ্রহী, তবে দখল বা নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করবে। তার ভাষায়, ‘আমরা আমাদের সীমা কোথায়, তা পরিষ্কার করে দিয়েছি।’

ভ্যান্স ও রুবিও বৈঠকের পর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, ডেনমার্ক তা ঠেকাতে পারবে না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পারবে।

এই আলোচনার মধ্যেই ইউরোপের মিত্র দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে। সুইডেন জানিয়েছে, ডেনমার্কের অনুরোধে তারা গ্রিনল্যান্ডে সশস্ত্র বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত। ফ্রান্স জানিয়েছে, আগামী মাসে গ্রিনল্যান্ডে একটি কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মানি জানিয়েছে, তারা একটি অনুসন্ধানী দল পাঠাবে, যাতে ডেনমার্ককে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার পরিবেশ যাচাই করা যায়।

ডেনমার্ক সরকার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমেই হবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন আর্কটিক অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এই আলোচনা ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং সিরিয়ায় আইএস লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। একই সঙ্গে ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকা নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ বাসিন্দাই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেও এই উদ্যোগের বিরোধিতা রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে, আর প্রায় অর্ধেক এর বিরোধিতা করেছেন।

সূত্র : বিবিসি

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুক্তি প্রতিক্ষায় দৃশ্যম-৩

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইসরায়েল

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্কে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত : সালাহউদ্দিন

জুবিনের মৃত্যুর কারণ জানাল সিঙ্গাপুর পুলিশ

জোটের জরুরি বৈঠক, যে কারণে নেই ইসলামী আন্দোলন

মিরসরাইয়ে কাভার্ডভ্যানে আগুন

ইরানের পক্ষে কঠোর অবস্থান সৌদি আরবের

রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু শুক্রবার

জামায়াত কার্যালয়ে জোটের জরুরি বৈঠক, নেই ইসলামী আন্দোলনের নেতারা

জাল দলিল সরবরাহকারী চক্রের সদস্যকে ধরিয়ে দিলেন সাব-রেজিস্ট্রার

১০

বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

১১

পটুয়াখালীতে বিএনপির ৪ ইউনিটের কমিটি স্থগিত

১২

সাময়িক বন্ধের পর আকাশসীমা আবার খুলে দিল ইরান

১৩

১১ দলীয় সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নতুন বার্তা

১৪

১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন

১৫

তুমি শুধু পরিবারের না, বাংলাদেশের গর্ব : তারেক রহমান

১৬

চরম জনবল সংকটে আশাশুনি হাসপাতাল

১৭

ইরানে নতুন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে

১৮

অনিশ্চয়তায় বিপিএলের সূচনা, সময়মতো শুরু হচ্ছে না দিনের প্রথম ম্যাচ

১৯

ফের অবরোধ ঢাকার তিন স্থান

২০
X