

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং তাদের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। তবে একই সময়ে ইরান সরকার জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির পথেই তারা এগোচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্র থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে, ইতোমধ্যে তা বন্ধ হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের বা তাদের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে ট্রাম্প তার এই বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সহায়তা আসছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল সবসময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থে যুদ্ধে জড়াতে চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এবার ইসরায়েল প্রকাশ্যেই সে বিষয়টি স্বীকার করছে।
আরাগচির দাবি, ইরানের রাজপথ এখন রক্তে ভিজে আছে। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তারা বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র সরবরাহের কথা প্রকাশ্যে বলছে, যার ফলে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানিও বুধবার ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাতারের আল উদেইদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে জুন মাসে চালানো হামলা দেখিয়েছে যে, যে কোনো আক্রমণের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ও ইচ্ছা ইরানের রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত হয়। ওই সংঘাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সূত্র : TRT World
মন্তব্য করুন