

হাড়কাঁপানো কনকনে শীত, চারদিকে বরফের সাদা চাদর। কিন্তু এই শুভ্রতা একদল মানুষের কাছে মূর্তিময় অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। একমুঠো খাবারের অভাব আর মাথার ওপর ছাদহীন আশ্রয়ে জমে বরফ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে শত শত শিশু।
তীব্র তুষারপাতে যখন জীবন থেমে যাওয়ার জোগাড়, তখন এক টুকরো শুকনো রুটি আর একটু গরম পানির আশায় হাহাকার করছে সিরিয়ার কামিশলি শহরের উদ্বাস্তু পরিবারগুলো।
আকস্মিক বিপর্যয় ও মানবেতর জীবন সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কামিশলি শহরের জাকি আল আরসুজি স্কুলের ভেতরে এখন আশ্রয় নিয়েছে ১০৪টি পরিবার। সম্প্রতি সিরীয় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এসডিএফের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এসব পরিবার।
বাস্তুচ্যুত জালুহ মোহাম্মদ আর্তনাদ করে বলেন, আমরা শুধু পরনের কাপড়টুকু নিয়ে ঘর ছেড়েছি। আমাদের বাচ্চাদের পায়ে জুতো নেই, গায়ে গরম কাপড় নেই। ঠান্ডায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কিন্তু কোনো ওষুধ নেই। সংকটে সাধারণ মানুষ আশ্রয়শিবিরের ব্যবস্থাপক ওয়ালিদ আলি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
তুষারপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। শিশুরা দুধ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া এই মানুষগুলোর সামনে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা। গত সপ্তাহে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার ও এসডিএফ-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। কামিশলি ও হাসাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমঝোতা চললেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ রাস্তাঘাট পরিষ্কারের চেষ্টা চালালেও প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও শীতবস্ত্রের অভাব এখনো প্রকট।
মন্তব্য করুন