মাত্র কয়েক ঘণ্টার হামলায় রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইসরায়েল। মাত্র ২০ মিনিটে দেশটিতে পাঁচ হাজার রকেট ছুড়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো সীমান্তের কাঁটাতার ভেঙে হামলা চালিয়ে বন্দি করেছে ৩৫ ইসরায়েলি সেনাকে। এতকিছু ঘটে গেলেও এ বিষয়ে আগাম কোনো তথ্যই দিতে পারেনি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তারা জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা কীভাবে সম্ভব হলো, তা বুঝতে পারছেন না তারা। এ ধরনের ব্যর্থতার জেরে দেশের অভ্যন্তরে প্রবল চাপের মুখে রয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিবিসি জানায়, দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভরশীল ইসরায়েল। দেশটির অভ্যন্তরে কার্যক্রম চালানোর দায়িত্বে রয়েছে শিন বেত। আর দেশের বাইরে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে থাকে মোসাদ। তবে, এবারের হামলার তথ্য দিতে পারেনি কোনো সংস্থাই। জানা যায়, ফিলিস্তিনের গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে থাকা ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যেও এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে রেখেছে মোসাদ। তবে, তাদের পক্ষ থেকেও এই হামলার বিষয়ে আগাম কোনো তথ্য পায়নি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে, এই মুহূর্তে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে নামছে না ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিতে ঢুকে পড়েছে হামাস যোদ্ধারা। তারা সেখানকার অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের জিম্মি করে রেখেছে। তাদের উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে, কমান্ডো অভিযানে জিম্মিদের উদ্ধার করা হবে নাকি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করা হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন।
এদিকে, হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। জানান, তারা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছেন। সে সময় শত্রুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর পরপরই অবরুদ্ধ গাজার ২২টি স্থানে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনাও। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের এ হামলায় অন্তত ১০০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। পাল্টা হামলায় প্রাণ গেছে ২০০’রও বেশি ফিলিস্তিনির।
মন্তব্য করুন