

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এখনো আলাপ-আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এখনো ঠিক হয়নি এতে কারা থাকবে, কারা থাকবে না।
তবে মূল কথা হলো, যে তিনটা শর্তের কথা বলা হয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা যাব না। আমরা ওখানে লড়াই করতে যাব না। ওখানে যদি এমন কোনো পরিবেশ থাকে, যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব নয়, তাহলেও আমরা যাব না। আমাদের এই শর্তগুলো পরিষ্কার। এরপর আমরা এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করব।
এই সরকারের শেষ সময়ে এসে এই ধরনের জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হবে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসছে। তবে সরকার কিন্তু থাকছে। একটি সরকার চলে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই সব কিছুর পরিবর্তন হয়ে যায় না।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতেই আপাতত অনঅ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীনের সহায়তায় বাংলাদেশ সামরিক স্থাপনা তৈরির মধ্য দিয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে এমন কিছু করব না।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানানো হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান প্রকাশ করেন। তিনি ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
কিন্তু এরপর থেকে এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ফিলিস্তিনের ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশের এমন বাহিনীতে যোগ দেওয়া উচিত হবে কি না, জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত না হলে এমন বাহিনীতে যোগ দেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত, এমন প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মন্তব্য করুন