মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্রমাগত হুমকি বাড়িয়ে তুলছে ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। অঞ্চলটিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নয় এবার মার্কিন নৌবাহিনীর জন্যও নতুন করে হুমকি হয়ে উঠছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। ফলে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সামরিক শক্তি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ওয়াশিংটন ডিসির কপালে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীটির কাছে রাশিয়ার তৈরি শক্তিশালী জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে। এমন সক্ষমতার প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে হুমকি দিয়েছেন গোষ্ঠীটির নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। জানা যায়, তাদের হাতে রাশিয়ার তৈরি ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার ইয়াখন্ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশকিছু জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সেখানে যোদ্ধা মোতায়েন করার পর লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রাগারে রুশ ইয়াখন্ট ক্ষেপণাস্ত্র যোগ হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি স্বীকার করেনি তারা। একটি সূত্র জানায়, ২০০৬ সাল থেকেই জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। সে সময় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধকালীন তেলআবিবের একটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত করে হিজবুল্লাহর জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। সংগঠনটির এমন সক্ষমতায় সতর্ক অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাজিড তথা সিএসআইএস এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রু রাডারকে ফাঁকি দিতে ইয়াখন্ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূমি থেকে ১০-১৫ মিটার উচ্চতায় উড়ে যায়। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বিমান ও সাবমেরিন থেকেও নিক্ষেপ করা যায় বলে জানায় সিএসআইএস। তবে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে গেল তা নিয়ে মস্কো কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিম মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। লেবাননের রাজনীতিবিদ নাসের কান্দিল জানান, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ জড়িয়ে পড়ার পুরস্কারস্বরূপ রুশ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ইয়াখন্ট অর্জন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। দুইটি সূত্র জানায়, গৃহযুদ্ধকে আসাদের পক্ষে নিয়ে আসার পুরস্কার স্বরূপ সিরিয়ান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র লাভ করে তারা। এ ছাড়া দলটি সিরিয়ার কাছ থেকে কর্নেট ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও লাভ করেছে। লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থনের জন্য সিরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির জন্য ক্রয়কৃত অস্ত্রের একটি অংশ দলটিকে সরবরাহ করে। এসব অস্ত্রের অধিকাংশই রুশ সামরিক কারখারগুলোর উৎপাদিত। ২০১০ সালে মস্কো ও দামেস্কের মধ্যে জাহাজাবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বলে জানিয়েছিল রুশ প্রশাসন।
মন্তব্য করুন