ইসরায়েলের কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তির আনন্দ উদযাপনের আতশবাজিতে শুক্রবার রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি এবং হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির প্রথম ধাপে এই নারী ও শিশুরা ইসরায়েল থেকে গাজায় ফিরেছে। সাঁজোয়া যানের পাহারায় দুটি সাদা কোচে বন্দিদের ওফার সামরিক ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসার পরে পশ্চিম তীরজুড়ে জনতা উল্লাস করেছে এবং তারা ফিলিস্তিনি ও হামাসের পতাকা নেড়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের সাদাকালো রুমাল নেড়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে সদ্য মুক্তি পাওয়া মারাহ বাকির (২৪) বলেছেন, ‘আমি খুশি কিন্তু আমার মুক্তি শহীদদের রক্তের মূল্যে এসেছে।’
আট বছর ধরে কারাগারে থাকা বাকির বলেন, ‘কারাগারের চার দেয়াল’ থেকে মুক্তি ছিল ‘বিশাল ঘটনা’।
মারাহ বাকির পূর্ব জেরুজালেমের বেইট হানিনায় তার পরিবারের বাড়িতে ফিরে আসার পর এএফপিকে বলেন, ‘আমি আমার শৈশব এবং আমার কৈশোর কারাগারে কাটিয়েছি, আমার বাবা-মা এবং তাদের আলিঙ্গন থেকে অনেক দূরে।’
গাজায় যুদ্ধ থামানোর জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে হামাস ১৩ জন জিম্মিকে ইসরায়েলের হাছে হস্তান্তর করার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মোট ৩৯ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী হানান আল-বারঘৌতি ইসরায়েলি হেফাজত থেকে দুই মাস পর মুক্তি পেয়েছেন। তিনি হামাসের সশস্ত্র শাখার নেতা এবং গাজার জনগণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।’
চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ৩৯ ফিলিস্তিনির বিনিময়ে ২৪ ইসরায়েলি ও বিদেশি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। এদের মধ্যে ১৩ জন ইসরায়েলি। শনিবার ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি আরও ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। অন্যদিকে হামাসও আরও ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। সব মিলিয়ে চার দিনের যুদ্ধবিরতিতে ৫০ ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে অতি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেবে ইসরায়েল। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। এর অংশ হিসেবে সেখানে খাবার, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ওষুধ কোনো কিছুই ঢুকতে দেয়নি তারা।
মন্তব্য করুন