কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কেমোথেরাপি ছাড়াই এখন ভালো হবে লাখো ক্যানসার রোগী

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ক্যানসার আক্রান্ত অসংখ্য রোগী এখন নিরাপদে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে পারবেন। বিজ্ঞানীরা এমন একটি ডিএনএ পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছেন, যা নির্ধারণ করতে পারে কোন স্তন ক্যানসার রোগী কেমোথেরাপি থেকে উপকৃত হবেন এবং কারা হবেন না।

শনিবার (৩০ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কেমোথেরাপির কারণে সাধারণত ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি বয়সী সদ্য শনাক্ত হওয়া ৪ হাজারেরও বেশি স্তন ক্যানসার রোগী অংশ নেন।

গবেষকরা ‘প্রোসিগনা’ নামের একটি জিন পরীক্ষা ব্যবহার করেন। এটি স্তন ক্যানসারের বৃদ্ধি-সংশ্লিষ্ট ৫০টি জিনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয় করে।

যেসব রোগীর ঝুঁকির স্কোর কম ছিল তাদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি। পাঁচ বছর পর দেখা যায়, এদের বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে কেমোথেরাপি পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

স্তন ক্যানসারের প্রধান চিকিৎসা সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ। রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে পরে অনেক সময় কেমোথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব রোগীর প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার কাছাকাছি লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে, তাদের ক্ষেত্রেও এ চিকিৎসা নিয়মিত প্রয়োগ করা হয়।

তবে ইউসিএলের গবেষকদের মতে, স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরনের ক্ষেত্রে অনেক রোগী কেমোথেরাপি থেকে খুব কম উপকার পান। গবেষণার ফল বাস্তবায়ন হলে প্রতিবছর যুক্তরাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার রোগী কেমোথেরাপি এড়িয়ে যেতে পারবেন।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডেভিড মাইলস এই গবেষণাকে ‘চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনার মতো’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে অনেক রোগী কেমোথেরাপি থেকে কোনো উপকারই পাবেন না। তাই তাদের এ চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফল ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

কালবেলা/এএমএম/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেষ আশ্রয়টুকুও গিলে খাচ্ছে ছোট ফেনী নদী

মিসওয়াকের গুরুত্ব ইসলামে এত বেশি কেন?

সলোমন দ্বীপপুঞ্জে স্বর্ণের খনিতে ধস

হরমুজ প্রণালিতে ৬টি জাহাজ থামাল ইরান

বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশনে ‘মাটি’

এনসিপির পথসভার কাছে মিলল বোমাসদৃশ বস্তু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ইসি

উগ্র ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ‘নয়াবাজার শাখা’ নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

১০

জুনিয়র এনটিআরের সিনেমায় ইউরোপিয়ান ধামাকা

১১

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১২

এতিমদের বরাদ্দের চালে নয়ছয়, অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

১৩

পদ্মা সেতুতে ইটিসির নতুন মাইলফলক, ১০ কোটি টাকা ছাড়াল টোল আদায় 

১৪

ফেনীতে বিজিবির অভিযানে বিপুল ভারতীয় মালামাল জব্দ 

১৫

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানী বাড়াল সরকার

১৬

অফিসার পদে চাকরির সুযোগ, বেতন ৬০ হাজার টাকা

১৭

কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাড়ল

১৮

উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিবসহ গ্রেপ্তার ৬

১৯

হিজবুল্লাহর প্রশংসায় খামেনি / ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছাড়া পথ নেই’

২০
X