

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন একটি উপহার দেন, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেতে আগ্রহী ছিলেন। সেটি হলো নোবেল শান্তি পুরস্কার।
ভেনেজুয়েলার সাবেক শক্তিশালী শাসক নিকোলাস মাদুরোর কড়া সমালোচক মাচাদো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। সেই পুরস্কারের পদক তিনি হোয়াইট হাউসে রেখে আসেন। তার আশা ছিল, এই প্রতীকী উপহার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন আদায়ে সহায়ক হবে।
তবে বাস্তবে তেমন কোনো স্পষ্ট আশ্বাস পাননি তিনি। বরং হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তার হাতে দেখা যায় ট্রাম্পের নাম ও লোগোযুক্ত একটি উপহার ব্যাগ। কিন্তু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিষ্কার বার্তা মেলেনি।
মাচাদো বর্তমানে মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের জন্য অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে, যদিও তিনি দীর্ঘদিন মাদুরো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ফলক হাতে নিয়ে মাচাদোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে লেখা ছিল, ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে এই উপহার দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মাচাদো তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছেন, যা পারস্পরিক সম্মানের একটি দারুণ নিদর্শন।
তবে নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল শান্তি কেন্দ্র দ্রুত জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কারের পদক হস্তান্তর করা গেলেও নোবেলজয়ীর স্বীকৃতি কখনোই অন্যের কাছে দেওয়া যায় না।
মাচাদো তার সঙ্গে বৈঠককে ঐতিহাসিক ও অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বোঝে। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন, যাতে প্রবাসী ভেনেজুয়েলানরা দেশে ফিরতে উৎসাহিত হন।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ইতোমধ্যে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। তিনি হলেন বিরোধী প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস, যাকে যুক্তরাষ্ট্র আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল। যদিও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সরকারি কর্তৃপক্ষ মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হন। তবুও তার পর যুক্তরাষ্ট্র মাচাদো বা গনসালেসের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়নি। বরং ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক বিরোধী নেতাকে বিস্মিত করে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প মাচাদোকে সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখলেও তাকে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন আছে বলে মনে করেন না। এই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান এখনো বদলায়নি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো আন্তর্জাতিক সম্মান দিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করতে পারেননি মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠিন হিসাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে। মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এই বৈঠক দেখিয়েছে, প্রতীকী উদ্যোগ যতই আলোচনার জন্ম দিক না কেন, শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বাস্তব শক্তি ও কৌশলগত বিবেচনার ওপর।
সূত্র : CNN
মন্তব্য করুন