কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উদ্যোগে গঠিত নতুন কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস) দাভোসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডে এই পর্ষদের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইসরায়েলের মধ্যে স্পষ্ট অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দেশটি একে গাজা ইস্যুর আন্তর্জাতিকীকরণ হিসেবে দেখছে।

যদিও শান্তি পর্ষদের সনদে গাজার নাম সরাসরি উল্লেখ নেই, তবু মধ্যপ্রাচ্য ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিধ্বস্ত গাজাই হতে যাচ্ছে এই পর্ষদের প্রথম বাস্তব প্রয়োগক্ষেত্র। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মারওয়া মাজিয়াদের মতে, ট্রাম্প গাজায় এই মডেল প্রয়োগের পর ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেনেও একই কাঠামো বাস্তবায়নের কথা ভাবছেন।

শান্তি পর্ষদে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ধনকুবের মার্ক রোয়ান এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়েছে।

তবে পর্ষদে তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিত্ব ইসরায়েলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের অন্তর্ভুক্তিকে নেতানিয়াহু সরকার গাজায় সম্ভাব্য তুর্কি-কাতারি সামরিক উপস্থিতির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গাজায় তুর্কি বা কাতারি কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আলোচক আরন ডেভিড মিলার এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, নতুন কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির বদলে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। মিলারের ভাষায়, এটি এমন একটি সমাধান, যা এই মুহূর্তে আমাদের দরকার নেই।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাবেক দূত নিকোলাই মালাডেনভকে গাজায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি শান্তি পর্ষদ ও গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটির মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবেন।

বর্তমানে গাজার বাস্তবতা বিভক্ত। উপত্যকার একটি বড় অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে, আর অন্য অংশ হামাসের দখলে। বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে কার্যকর কূটনীতি ছাড়া দাভোসে যত আলোচনাই হোক না কেন, গাজার এই বিভাজন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

কালবেলা/এএএম/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২১ দিনে জাবির মেডিকেল সেন্টার থেকে উধাও সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ

প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না মায়ের

‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে’

প্রকল্পের অব্যয়িত প্রায় ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

ভারতে পাচারের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৬৫ কচ্ছপ জব্দ, সালদা নদীতে অবমুক্ত

মহাকবি কায়কোবাদ স্মরণে নবাবগঞ্জে ‘আজান’ কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

সারাদেশে খাল খননের নামে বালু-মাটি লুটপাট করা হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

গোয়ালন্দে ওয়ে ব্রিজ স্কেলের গার্ডার ভেঙে বন্ধ ওজন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ট্রাকচালকরা

নড়াইল জেলা ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র আহ্বায়ক জাকারিয়া, সদস্যসচিব সাগর

স্কুলে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

১০

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১১

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

১২

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

১৩

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

১৪

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

১৫

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

১৬

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

১৭

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

১৮

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

১৯

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

২০
X