সবচেয়ে সমৃদ্ধ সামরিক শক্তি নিয়ে সারা বিশ্বে দাপট দেখিয়ে বেড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে মহড়া, সবকিছুতেই একচ্ছত্র আধিপত্য দেশটির সেনাবাহিনীর। অত্যাধুনিক সব যুদ্ধবিমান এমনকি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বস মানা হয় তাদের। বিশেষ করে অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের বহরে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ধরা হয় বোয়িং সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টারকে।
এ ধরনের হেলিকপ্টার মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। দৈত্যাকার এই আকাশ যান দিয়ে সৈন্য পরিবহন, আর্টিলারি স্থানান্তরসহ যুদ্ধক্ষেত্রে রসদ সরবরাহ করা হয়। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সেনা গুরুতর আহত হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এটি। যার ভেতরেই প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শক্তিশালী এই হেলিকপ্টার দিয়ে সহজেই গাড়িও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। আকারে বিশাল হলেও দুর্গম পাহাড়েও এটি খুব সহজে পরিচালনা করা যায়। বিভিন্ন দেশে মহড়ার সময় এই ধরনের হেলিকপ্টার দিয়ে সেনারা মাঝ আকাশে ড্রাইভও দিয়ে থাকেন। মালামাল পরিবহনের জন্য এর তেলের ট্যাংকারের পাশে প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি অতিরিক্ত কার্গো হুক সুবিধাও রয়েছে হেলিকপ্টারে।
দুই ইঞ্জিন ও ট্যানডেম পাখা বিশিষ্ট এই যানের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম অটোমেটিক জিপিআরএস সিস্টেম। সহজেই পরিচালনার জন্য ককপিটে অন্তত ২ জন পাইলট বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ধারণক্ষমতা তিন ক্রুসহ অন্তত ৩৬ জন। ভারী এই হেলিকপ্টারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩১৫ কিলোমিটার। ১৯৬০-এর দশকে নকশা করা এর গতিবেগ তৎকালীন আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টারের চেয়েও বেশি ছিল।
যা বলছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান
আন্তর্জাতিক বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের দাবি, এই মডেলের হেলিকপ্টার এখন পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৭৯টি। বর্তমানে বোয়িং ডিফেন্স, স্পেস অ্যান্ড সিকিউরিটি এই হেলিকপ্টার উৎপাদন করছে। যার প্রতিটি উৎপাদনে খরচ হচ্ছে গড়ে সাড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলার করে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এখন পর্যন্ত ১৬টি দেশে এই হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সসহ হচ্ছে এই হেলিকপ্টারের সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী। বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে সেখানে এর ব্যবহার বেশি। আফগানিস্তানেও এই ক্ষ্যাপাটে এবং শক্তিশালী হেলিকপ্টারের ব্যবহার দেখেছে বিশ্ব।
মন্তব্য করুন