১২ বছর পার করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ফেসবুক ফ্যান পেইজ ‘দ্য বিউটি অব ডিইউ ক্যাম্পাস’। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর পরিচালনায় গত ৩০ আগস্ট ফেসবুক পেইজটি ১৩তম বছরে পা দিল। এই সুদীর্ঘ পথচলায় পেইজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য তুলে ধরতে অনন্য এক ভূমিকা পালন করছে। লিখেছেন মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ-
ধরুন, কোনো এক বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস শেষ করে বাসায় যাচ্ছেন। কিংবা দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে বসে ফেসবুকে নিউজফিড স্ক্রল করছেন। আচমকা চোখ আটকে গেল চিরচেনা টিএসসির সামনের খোলা জায়গায়। যেখানে কাটিয়ে এসেছেন জীবনের অন্যতম সুন্দর সময়। সেখানেই এখন নতুন কোনো ব্যাচের একদল তরুণ-তুর্কি সময় কাটাচ্ছে দেদার। মুহূর্তেই আপনার মনে পড়ে গেল আপনার কাটিয়ে আসা চার-পাঁচটি বছরের কথা, বন্ধুদের কথা, ভালোবাসার কথা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের নানান চিত্র, অনুভূতি, সাফল্য কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য ইত্যাদি প্রকাশ করে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে এমনই এক পেজ—দ্য বিউটি অব ডিইউ ক্যাম্পাস।
২০১১ সালে শখের বশে খোলা পেজটি পা দিয়েছে ১৩তম বর্ষে। এ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন ছবি, ফিচার, লেখা কিংবা জরুরি রক্তের প্রয়োজনে পেজের ইনবক্সে মেসেজ দিয়েছেন লাখো মানুষ। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো অসুস্থ শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতায় ফান্ড কালেকশনসহ নানা ধরনের সেবাধর্মী কাজের আয়োজনও করা হয়েছে পেজটি থেকে।
এখন সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি ফেসবুক ফলোয়ার আছে এতে। বলাবাহুল্য, বেশিরভাগ সদস্যই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যারা এখানে ঢু মারেন একটুখানি নস্টালজিক হতে, একটুখানি প্রশান্তির জন্য।
স্কুল-কলেজ ও অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পেজটি ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। যারা এখানে পড়ার স্বপ্নে বিভোর, তারাও প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন এখানে।
পেজটি সম্পর্কে জাহিদুল হক নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন—‘আমি কলেজের প্রথম বর্ষ থেকেই পেজটি ফলো করে আসছি। এটি আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছিল। আমার ঢাবিয়ান হওয়ার পেছনেও এটি ভূমিকা রেখেছে।’
অন্তরা পাল তার ভালো লাগা প্রকাশ করেছেন—‘অ্যাডমিশনের সময় ঢাবিতে পড়ার স্বপ্নটা দৃঢ় হয়েছিল পেজের দৃষ্টিনন্দন পোস্টগুলো দেখেই। অনেক অনেক শুভকামনা।’
মুহাম্মদ সাইফুল লিখেছেন, ‘আমি ঢাবির না হলেও এর ছবিগুলো দেখি। এ পেজের লেখা, পোস্ট, আর্টিকেল খুব ভালো লাগে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ফ্যান পেজটিতে প্রতিবছরই অ্যাডমিন প্যানেলে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। পেজটি পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবামূলক। এতে নেই মনিটাইজেশন কিংবা আয়ের বালাই। ২০১১ সাল থেকেই পেজটি পরিচালনা করা হচ্ছে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা’।
এমনই এক অ্যাডমিন জানালেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ওয়েবসাইট নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠানো কন্টেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো গোছাল আকারে প্রকাশ করা যাবে। তাছাড়া আগামী বছর শিক্ষার্থীদের তোলা ছবি নিয়ে বড় পরিসরে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চাই। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাম্পাসভিত্তিক পেজ তৈরিতেও সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।’
তিনি আরও জানালেন, দ্য বিউটি অব ডিইউ ক্যাম্পাস ফেসবুক পেইজে সাধারণত কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পোস্ট হয়ে থাকে, যেমন: শিক্ষার্থীদের তোলা ছবি/ভিডিও, তাদের লেখা ছোট গল্প, কবিতা, কখনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ফিচার, কখনো সার্কাস্টিক কৌতুক। সবই ঢাবি কেন্দ্রিক। কখনো সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়েও বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কন্টেন্ট পাঠিয়ে থাকেন।
তাছাড়া, ‘ইমার্জেন্সি ক্যাটাগরির’ পোস্টে আমরা রক্ত চেয়ে পোস্ট করি। দেখা গেছে শতকরা ৬০ ভাগ সময়ই রোগীকে রক্তদাতার তথ্য দিতে সক্ষম হই। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কেউ জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ফান্ড কালেকশনের জন্যও আমরা সিরিজ আকারে ক্যাম্পেইন/পোস্ট করি। আবার ঢাবি শিক্ষার্থীদের যেকোনো অর্জনও আমরা প্রচার করি। হল/বিভাগ সংক্রান্ত সমস্যাও অনেকে আমাদের ইনবক্সে জানায়। সত্যতা যাচাই সেটাও পোস্ট করে থাকি। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো সুরাহা হয়ে যায়।
পেজটি পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে—facebook.com/BeautyOfDUCampus
মন্তব্য করুন