

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন পরিকল্পনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত। তবে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল দখলে নিতে তিনি কোনো ধরনের সামরিক শক্তি বা বল প্রয়োগের পথে যাবেন না।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি অতিরিক্ত শক্তি ও বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত না নিই, তাহলে সম্ভবত আমরা কিছুই পাব না। সত্যি বলতে, যদি বল প্রয়োগের চেষ্টা করি, তাহলে কেউ আমাদের ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু আমি তা করব না। এটি সম্ভবত আমার দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি, কারণ অনেকেই ভেবেছিল আমি বল প্রয়োগ করব।’
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করায় ইউরোপের ৮টি দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তার এই ঘোষণায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি দুপক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই অবস্থানের ফলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও সংকটের মুহূর্তে এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইউরোপের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক হুমকি পশ্চিমা বিশ্বে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন