

পারলো না সিলেট টাইটান্স। বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাদেরকে ১২ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আজ বুধবার প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে নাজমুল হাসান শান্তর দল। জবাবে রাজশাহীর দুর্দান্ত বোলিং আর ফিল্ডিং নৈপুণ্যে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানেই থেমে যায় সিলেট টাইটান্সের ইনিংস। ফলে হারের বিদনা নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিলেট টাইটান্সের ভক্ত-অনুরাগীরা।
রাজশাহীর ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে সিলেট। প্রথম ওভারেই ওপেনার জাকির হাসানের উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। ৩ বলে কোন রান যোগ না করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জাকির। তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আরিফুল ইসলামও। ৬ বল খেলে ০ রান করেছেন তিনি। দলের ৭ রানের মধ্যেই হাওয়া জোড়া উইকেট।
তবে শুরুর সেই ধাক্কার পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন টিকে থাকা ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন এবং চারে নামা স্যাম বিলিংস। ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামলেছেন ইমন এবং বিলিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান তুলে সিলেট। সময়ের সাথে সাথে রানের গতি বাড়ে সিলেটের। হাত খুলে মারতে শুরু করেন ইমন আর বিলিংস। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুজন। কৌশলী ব্যাটিংয়ে বের করেছেন রান। দলের ইনিংসও গতি পায় অনেকটাই।
কিন্তু ফিফটির খুবই কাছে গিয়ে থেমে যান ইমন। ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে দলের ৭৬ রানের মাথায় বিদায় নেন তিনি। বিলিংস টিকে থেকে লড়াই চালিয়ে যান। পাঁচে নামা মঈন আলী এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ৫ বলে ৭ রান করে মোহাম্মদ রুবেলের বলে আউট হয়ে বিদায় নেন এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার।
এরপর বিলিংসের সাথে যোগ দেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ভালোই এগোচ্ছিল দুজনের জুটি। তবে বিলিংসকে ফিরিয়ে দিয়ে খেলা জমিয়ে দেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। ২৮ বলে ৩৭ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন বিলিংস। এরপর টানা দুই ওভারে আফিফ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট হারিয়ে ফেলে সিলেট। চাপ বেড়ে যায় আরও। ১২ বলে ২১ রান করেন আফিফ। ১৩ বলে ৯ রান করেন মিরাজ।
শেষ দিকে লড়াই চালিয়ে যান আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক ক্রিস ওকস। শেষ ২ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ২৯ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৫ রান দেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। শেষ ওভারে একের পর এক স্লোয়ারে বিনুরা ফার্নান্দো দেন ১১ রান। ফলে ১২ রানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। রাজশাহীর হয়ে এদিন মাত্র ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো। সমান ১টি করে উইকেট লাভ করেন যথাক্রমে মোহাম্মদ রুবেল, আবদুল গাফফার সাকলাইন এবং তানজিম সাকিব।
এর আগে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরুটা দারুণ করে রাজশাহী। তানজিদ হাসান তামিম এবং সাহিবজাদা ফারহানের ওপেনিং জুটি থেকে চলে আসে ৪১ রান। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে দ্রুত গতিতে রান তুলেছেন তানজিদ। ২১ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন ফারহান।
তানজিদ আরও কিছুক্ষণ টিকে ছিলেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬১ রান তোলে রাজশাহী। তিনে নেমে এক প্রান্ত ধরে খেলেছেন কেইন উইলিয়ামসন। ১৫ বলে ৩২ রান করা তানজিদ থামেন দলের ৬২ রানের মাথাতে। চারে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত বেশিক্ষণ টেকেননি। ১০ বলে ৭ রান করে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এরপর ডাক মেরে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম এবং এস এম মেহেরব হোসেন। ১ বলে ০ রান করেছেন মুশফিক। মেহেরব করেন ৩ বলে ০ রান।
শেষ দিকে জিমি নিশামের সাথে ভালো একটি জুটি হয় উইলিয়ামসনের। দারুণ কার্যকরী ব্যাটিংয়ে রান তুলেছেন নিশাম। হাঁকিয়েছেন দারুণ সব বাউন্ডারি। দলের চাহিদা মিটিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন নিশাম। দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন উইলিয়ামস। বেশি আগ্রাসী না হলেও ছিলেন সাবলীল। ২৬ বলে ৪৪ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান নিশাম। ততক্ষণে অবশ্য দেড়শ পার করে ফেলেছে রাজশাহী। ২ বলে ১ রান করে বিদায় নেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ৩৮ বলে ৪৫ রান করে টিকে ছিলেন উইলিয়ামসন।
সিলেটের হয়ে ৩ উইকেট নেন সালমান ইরশাদ। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং নাসুম আহমেদ। ১ উইকেট তোলেন ক্রিস ওকস। তবে মাত্র ১৯ রানের বিনিময়ে প্রতিপক্ষের মূল্যবান ৪ উইকেট তুলে নেওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্টার নিজের করে নেন বিনুরা ফার্নান্দো। আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বিপিএলের এবারের আসরের ফাইনাল। যেখানে রাজশাহী খেলবে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে।
মন্তব্য করুন