কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৫৫ এএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:০১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

‘সেলফি’ হাওয়ার রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর
শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদের সাথে সেলফি তুলছেন জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদের সাথে সেলফি তুলছেন জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সেলফিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে জোর আলোচনা। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই বড় দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনীতিতে চলছিল উত্তেজনা। এক সেলফিতেই সেখানে বইছে নতুন হাওয়া। মার্কিন ভিসা নীতিসহ বিদেশিদের তৎপরতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিল ক্ষমতাসীনরা। ‘সেলফি কূটনীতি’র মধ্য দিয়ে হঠাৎ যেন চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন তারা। বাইডেনের সেলফিকে বর্তমান সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয়তা হিসেবে দেখতে চাইছেন সরকার সমর্থকরা। আর বিরোধীপক্ষ বিএনপি নেতারা এ ঘটনাকে খুব বেশি পাত্তা দিতে চাইছেন না। তাদের মনোভাব, এক সেলফিতে কোনো কিছুই হঠাৎ বদলে যাবে না।

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও বাংলাদেশ এই জোটের সদস্য নয়। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত শনিবার এই সম্মেলনের এক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল সেলফিতে ধরা দেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের শীর্ষ নেতা।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, জো বাইডেন শেখ হাসিনা এবং তার কন্যার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে সেলফি তুলছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, তাদের কাছেই দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। একই ছবিতে দেখা যায়, কিছুটা দূরত্বে থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সেলফি তোলার দৃশ্য দেখছেন। আরেকটি ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনা এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে আলাপরত অবস্থায় দেখা যায়। অন্য আরেকটি ছবিতে বাইডেনকে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটারে) প্রকাশ করেন। এরপরই এগুলো ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও অনেক গণমাধ্যমকর্মী নানা ক্যাপশন লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিমত, বাইডেনের এসব ছবি প্রমাণ করে, নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব নিরসন হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দেশটির নানামুখী চাপ দূর হবে এবার।

তবে বিএনপিসহ বিরোধী পক্ষের বলয়ের নেতাকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, একটি ছবি সব সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

ইউরোপ-আমেরিকার সংস্কৃতি হলো অন্যকে সম্মান করা। তারা বিভিন্ন দেশে বা আঞ্চলিক বৈঠকে গেলে অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন, ছবি তোলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, একটি সেলফি রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। অন্যদিকে সরকারপন্থিরা হয়েছেন আত্মবিশ্বাসী।

সেলফি নিয়ে কথা বলেছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশও করছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক সমাবেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এক সেলফিতে বিএনপির নেতাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এতদিন বিএনপি আটলান্টিকের ওপারে হোয়াইট হাউসের দিকে তাকিয়ে ছিল, বাইডেন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসাবে। কিন্তু বাইডেন নিজেই সেলফি তুললেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। দিল্লির এক সেলফিতেই বিএনপির রাতের ঘুম হারাম, চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আশা ভেঙে গেছে। ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসনে যাওয়ার লাফালাফি বন্ধ হয়ে গেছে বিএনপির।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গতকাল রোববার বলেছেন, ‘ছবি অনেক কথা বলে। এই ছবির ভাষা নিশ্চয়ই সাংবাদিক এবং বোদ্ধা ব্যক্তিরাও বুঝতে পারছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আগামী দিনে আরও ঘনিষ্ঠ হবে।’

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেলফি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের এই উচ্ছ্বাসের সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের স্মরণসভায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা বাইডেনের সঙ্গে সেলফি তোলার বিষয়টি এমনভাবে উদযাপন করছে যেন তারা নির্বাচনে জিতে গেছে।’

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বাদ দিয়ে তুচ্ছ বিষয়ে মনোনিবেশ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সেলফিটা বাঁধিয়ে গলার মধ্যে পরে ঘোরেন। এটা আপনাদের জন্য উপকারী হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ দিচ্ছেন না বলে আমেরিকা ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়। তাহলে এখন কী বুঝব, আপনারা এরই মধ্যে সেন্টমার্টিন দিয়ে দিয়েছেন?’

ফখরুল আরও বলেন, ‘সেলফির জন্য ভিসা নীতি কিংবা র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়নি। সময় থাকতে নিরপেক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করুন, না হলে এই সেলফি আপনাদের বাঁচাতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, তারা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শরীরের সবচেয়ে নোংরা অংশ কোনটি, জানলে অবাক হবেন

মহাসড়কে শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার, বিভাজকে থেঁতলানো লাশ

কিডনি ভালো না থাকলে শরীর যেভাবে সিগন্যাল দেয়

চানখাঁরপুলে হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার, সরাসরি সম্প্রচার হবে বিটিভিতে

বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী

জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

দেশকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন জিয়াউর রহমান : ফখরুল

দুই নতুন মুখ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি–টোয়েন্টি দল ঘোষণা

আগামী প্রজন্মের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিন : সেলিমুজ্জামান 

আপনার তোয়ালে কি সত্যিই পরিষ্কার

১০

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল 

১১

বাগদান সারলেন মধুমিতা সরকার

১২

১৫ জেলায় নিয়োগ দিচ্ছে বেসরকারি ব্যাংক

১৩

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে স্বর্ণ-রুপার দাম

১৪

বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দিতে সময়সীমা বেঁধে দিল সরকার

১৫

যে ৮০ কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন হজযাত্রীরা

১৬

শবেবরাত কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়

১৭

বিপিএল প্লে-অফে কে খেলবে কার বিপক্ষে

১৮

হেনস্তার শিকার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অহনা 

১৯

বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

২০
X