

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমানের ডাকনাম ‘কমল’। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি।
এমন সময় বিএনপি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করছে, যখন গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তার সহধর্মিণী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। উত্তরসূরি হিসেবে দলীয় গঠনতন্ত্রের আলোকে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের বড় ছেলে তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং জাতির জন্য পাথেয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ তার চিন্তা ও দর্শনের বাস্তবায়ন আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।
জিয়াউর রহমানের বাবা মনসুর রহমান পেশায় ছিলেন একজন রসায়নবিদ। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান বাবার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমাদৃত। তিনি অস্ত্রহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন। জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিএনপি। তার গড়া সেই রাজনৈতিক দল তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বড় ছেলে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত। অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসিকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান অসামান্য। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি যুদ্ধ করেন। আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বিশ্ব মানচিত্রে তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে। জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে এখনো স্মরণ করে। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা।
১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদাতবরণ করেন দেশপ্রেমিক এ রাষ্ট্রনায়ক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাকে সমাহিত করা হয়।
বিএনপি মহাসচিবের বাণী: জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার এক বাণীতে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
মির্জা ফখরুল বলেন, রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, সেই মহাসংকটকালে ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট ‘সার্ক’ গঠন করেন। আমি এ মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক সাম্য, ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।
কর্মসূচি: জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ সোমবার বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে সিনিয়র নেতারাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মী পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে জাতীয় নেতারাসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোয় দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং পোস্টার প্রকাশ করেছে বিএনপি।
মন্তব্য করুন