কক্সবাজারের উখিয়ার দুর্গম লাল পাহাড়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব। অভিযানে আরসার আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাংলাদেশে আরসার প্রধান সমন্বয়কসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো শাহনুর ওরফে মাস্টার সলিম (৩৮) ও মো. রিয়াজ (২৭)।
গতকাল বুধবার ভোররাতে হাকিমপাড়া আশ্রয়শিবিরের পশ্চিমে দুর্গম লাল পাহাড়ে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে আরসার আস্তানা থেকে ৫টি গ্রেনেড, ৩টি রাইফেল গ্রেনেড, ১০টি দেশীয় হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি ককটেল, একটি বিদেশি রিভলবার, ৯ রাউন্ড নাইন এমএম পিস্তলের অ্যামুনিশন, একটি এলজি এবং তিনটি ১২-বোর কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরক, গ্রেনেড, আইইডি ও রকেট সেল নিষ্ক্রিয় করে।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আরাফাত ইসলাম কালবেলাকে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে লুট হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে আমাদের অভিযানে উদ্ধার অস্ত্রগুলোর মিল পাওয়া যায়। তবে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন।
র্যাব জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮০ জনের প্রাণ নিয়েছে।
র্যাব বিভিন্ন অভিযানে আরসার সামরিক কমান্ডার হাফেজ নূর মোহাম্মদ, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, গান কমান্ডার রহিমুল্লাহ ওরফে মুছা, অর্থ সমন্বয়ক মোহাম্মদ এরশাদ অরফে নোমান চৌধুরী, আবু তৈয়ব, কিলার গ্রুপের প্রধান নূর কামাল অরফে সমিউদ্দিন, ইন্টেলিজেন্স সেলের কমান্ডার ওসমান গনি গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ছাড়া লজিস্টিক শাখার প্রধান, গান গ্রুপের প্রধান, অর্থ শাখার প্রধান এবং আরসার প্রধান নেতা আতাউল্লাহর দেহরক্ষী আকিজসহ ১১০ জন আরসা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লাল পাহাড় থেকে গ্রেপ্তার হওয়া শাহনুর ওরফে মাস্টার সলিম বাংলাদেশে আরসার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল বলে জানিয়েছে র্যাব। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, মাস্টার সলিম ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং ক্যাম্প-১৫ এ বসবাস শুরু করে। সে আগে মিয়ানমারে আরসার জোন কমান্ডারের দায়িত্বে ছিল। আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির দেহরক্ষী হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালন করে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে ২০১৭ সালে আসার পর মৌলভী আকিজের মাধ্যমে আরসায় ফের যোগ দেয়। আরসার হয়ে আধিপত্য বিস্তার কোন্দলসহ খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন বিস্ফোরকের ওপর পারদর্শী মাস্টার সলিম। তার বিরুদ্ধে ৩টি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার রিয়াজ ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে। ২০১৮ সালে মৌলভী মো. ইব্রাহিমের মাধ্যমে আরসায় যোগ দেয় এবং প্রাথমিকভাবে আরসার হয়ে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করে। এ সময় সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আরসা বিরোধী সংগঠনের সদস্যদের গতিবিধি লক্ষ করত। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারে ফিরে যায় এবং সেখানে ৬ মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়। দেশে ফিরে রিয়াজ সলিমের সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করে। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে।