বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬১ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তবে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ মানুষ (প্রায় ৬৭ শতাংশ) মত দেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় সব সংস্কার শেষে নির্বাচন আয়োজন করা। আর শুধু নির্বাচনসংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার। পাশাপাশি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনায় ভালো করছে। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে এক জরিপের ফলাফলে জানা যায় এসব তথ্য।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেমন আছে বাংলাদেশ, এ নিয়ে কী ভাবছেন দেশের নাগরিকরা—এসব বিষয়ে চলতি বছর ১৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর ভয়েস অব আমেরিকা দেশব্যাপী একটি জরিপ করে।
অংশগ্রহণকারীদের ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ শহর এবং ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রামের বাসিন্দা আগামী এক বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চান। পুরুষদের ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীদের ৬৫ শতাংশ এ মত দেন। তরুণদের মধ্যে (১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী) ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ আর ৩৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আগামী নির্বাচনের পক্ষে। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেসব ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছে বলে জরিপের উত্তরদাতারা মনে করছে, তার মধ্যে একটি হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ।
কয়েক দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। একশ দিনে সরকারের নানা কার্যক্রম, অগ্রগতি, সাফল্য, সীমাবদ্ধতা, চ্যালেঞ্জ এবং সামনের সময়ের পরিকল্পনা, বিশেষ করে সংস্কার ও নির্বাচনী রোডম্যাপ সম্পর্কে কথা বলেন তিনি। সে ভাষণেও প্রধান উপদেষ্টা সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারকাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করব। ততদিন পর্যন্ত আপনাদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করব। নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে দ্রুত আপনারা নির্বাচনের রোডম্যাপও পেয়ে যাবেন। রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার এ সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এরও পরে নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে সম্প্রতি আলজাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন—জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি চায় সংস্কার ভুলে যাও, নির্বাচন দাও—তাহলে তাই করব।
সবারই জানা যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ একটি সুষ্ঠু ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক শক্তির কাছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা। তবে দেশের বিরাজমান বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় সংস্কারও অত্যন্ত জরুরি। সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, ভয়েস অব আমেরিকার জরিপও সংস্কার ও নির্বাচন ইস্যুতে রাষ্ট্রব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অচলায়তনের যেমন সংস্কার দরকার; একই সঙ্গে মানুষ যেন তার পছন্দের প্রতিনিধি বাছাইয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—মানুষের এমন মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। আমাদেরও প্রত্যাশা, এ দুই কাজই যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সবাই দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান নেবে।