কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চারদিক

নারী নির্যাতন থামাবে কে

আজহার মাহমুদ, খুলশী-১, চট্টগ্রাম
নারী নির্যাতন থামাবে কে

আমাদের চারপাশে নৈতিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে যাওয়ার দৃশ্য আজ স্পষ্ট। ভীতসন্ত্রস্ত, অশান্তি ও অস্থিরতা বাড়ছে পুরো পৃথিবীজুড়ে। ফলে পারিবারিক কলহ, অবাধ যৌনাচার, অশ্লীলতা, যৌন বিকৃতি, কুরুচিপূর্ণ সমকামী ও বহুকামিতার মতো পশুসুলভ যৌন আচরণ সমাজকে নিয়ে যাচ্ছে অবক্ষয়ের দ্বারপ্রান্তে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার খবরের প্রায় অধিকাংশই সামাজিক অবক্ষয়ের। পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, প্রেমিকার হাতে প্রেমিক খুন, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, ছেলের হাতে মা খুন, পুত্রের হাতে পিতা খুন ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন খুন, ধর্ষণ, গুমের খবর তো নিয়মমাফিক সংবাদে পরিণত হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে অবাধে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনাগুলো ভয়াল আকার ধারণ করেছে। কোনোভাবেই যেন ধর্ষণের মতো এ ঘৃণ্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে পৈশাচিক ধর্ষণ। এ অবস্থায় আইন ও বিচারের পাশাপাশি ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রয়োজন গণসচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলন। যদিও আমি মনে করি, সচেতনতার পাশাপাশি আইনের শাসন আরও জোরালো হলেই ধর্ষণরোধ হতে পারে।

ধর্ষণরোধে প্রয়োজন ধর্মীয় মূল্যবোধ। আমরা যতই আধুনিক হচ্ছি, ততই এগিয়ে যাচ্ছি নোংরামির দিকে। আমাদের ভেতর থাকছে না ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ভয়। যার কারণে এসব কাজ করতে আমরা একমুহূর্তের জন্যও চিন্তা করি না। আমাদের ভেতর এখন শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধের মাত্রা নেই বললেই চলে।

যদি সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিই, দেখা যাবে আশঙ্কাজনকহারে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে গেছে। পত্রিকার পাতা থেকে নিকট অতীতের কিছু সংবাদ জানিয়ে দিতে চাই আপনাদের। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মহান শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল সংগ্রহ করতে যাওয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক গৃহবধূকে (২২) ট্রলারে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পদ্মার চরে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। ৫ ফেব্রুয়ারি জয়পুরহাটেও এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়, এ ঘটনায়ও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক মাদ্রাসাছাত্রী। ৬ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ধারালো অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ধলেশ্বরী নদীর তীরে এক পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে।

এসব সংবাদ পত্রিকার পাতা থেকেই তুলে ধরলাম। আর অল্প সংবাদই তুলে ধরেছি, সব তুলে ধরতে গেলে কী অবস্থা হবে, তা কল্পনাও করা যাবে না। আজকাল বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের একটি অংশ থাকে ধর্ষণের খবরের জন্য। যেখানে গেলে পাওয়া যায় সব ধর্ষণের খবর।

মূলত পারিবারিক-সামাজিক-প্রথা-সংস্কার ধূলিসাৎ, সামাজিক-নৈতিকতার চরম অবক্ষয়, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার বিশেষ করে ল্যাপটপ-কম্পিউটার-মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও জবাবদিহিবিহীন ব্যবহারের সুযোগ, পর্নোগ্রাফির অবাধ বিস্তার, বিশ্ব সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকের আগ্রাসনই ধর্ষণের ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল পারিবারিক বন্ধন, দুর্বল সামাজিক কাঠামো, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, দারিদ্র্য ও বিচারহীনতা। আরও রয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় সংস্কৃতি চর্চার অভাব, সুষ্ঠু ও সুস্থ ধারার বিনোদনের অনুপস্থিতি, কিশোর-কিশোরীদের ক্রীড়া-কর্মকাণ্ডের অভাব ইত্যাদি। সমাজে যতসংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, ততটার বিচারের খবর আমরা পাই না। গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর তেমন একটা দেখা যায় না বললেই চলে। বরং অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষকরা শুধু পারই পায় না, পুরস্কৃতও হয়।

ধর্ষণ তথা যৌন নির্যাতন হ্রাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে রাষ্ট্র। যদি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়, তাহলে এ ঘটনা হ্রাস হতে পারে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সমাজ এবং পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি ধর্ষণের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সবার এক হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। এসব আন্দোলনের মাধ্যমেও যৌন নির্যাতনের ঘটনা হ্রাস সম্ভব। এতে ধর্ষক ও নিপীড়ক বার্তা পায়। ফলে দুর্ঘটনা হ্রাস পেতে পারে।

সামাজিক ও জাতীয় জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ সুগঠিত ও সুসংগঠিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ও অশুভ বিস্তার ঠেকাতে হবে। বিশ্ব সংস্কৃতির নেতিবাচক উপাদানও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এসবের দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের। পাশাপাশি আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করতে হবে। তাহলে যদি অশুভের এ সুনামি প্রতিরোধ করা যায়। এ ছাড়া কখনো অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাও অত্যন্ত জরুরি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২৯ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় জবিতে বিক্ষোভ

বিএনপির জয় নিশ্চিত বুঝেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে : আবদুস সালাম

ধানের শীষের বিজয় মানে গণতন্ত্রের বিজয় : অপর্ণা রায়

কিপারের হেডে রিয়ালের পতন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বিএনপির অঙ্গীকার : রবিউল

বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

১০

বিশ্বকাপের আগে নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার 

১১

দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি : মির্জা আব্বাস

১২

রাতে বিচারকের বাসায় ককটেল হামলা 

১৩

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

১৪

ইসলামের নামে ধোঁকা দেওয়া সহ্য করবে না মানুষ : ১২ দলীয় জোট 

১৫

ভোটে সহিংসতার দায় আ.লীগের কেন, ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৬

বিএনপির আরও ১১ নেতাকে বহিষ্কার

১৭

চবির নতুন ডিনকে আ.লীগপন্থি দাবি করে জাতীয়তাবাদী ফোরামের ক্ষোভ

১৮

ভারতের কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর কোনো কারণ খুঁজে পাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৯

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

২০
X