আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়ের কথা জানা গেলেও এখনো নির্ধারিত হয়নি নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ। তারপরও নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনের তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে কিছু সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপিসহ কিছু মহলের মাঝেমধ্যেই যখন শোনা যায় সংশয় ও দোলাচলের কথা, তখন এ বিষয়ে সংস্থাটির তৎপরতা ইতিবাচকই বলতে হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত হয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক আনার ব্যাপারে ইসির নতুন নীতিমালা জারির সংবাদ। নতুন এ নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম অনুমোদনে সরকার নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। এ মর্মে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি গণমাধ্যম নীতিমালা-২০২৫ জারি করে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম অনুমোদনের ক্ষমতা সরকারের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের হাতে নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ ছাড়া পছন্দমতো বিদেশি পর্যবেক্ষক আনার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে নীতিমালায়। এ ছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য ৩০ দিনের সময় দিয়ে আবেদন আহ্বান করবে ইসি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা সংগঠন হিসেবে পর্যবেক্ষক হতে হলে যে শর্ত পূরণ করতে হবে, তা হচ্ছে—ভোট দেখতে হলে সুশাসন, নির্বাচন, গণতন্ত্র, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা। পাশাপাশি আবেদনকারী সংস্থাকে নিজের দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অধীন নিবন্ধিত হতে হবে। নির্বাচনী আইনে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং জালিয়াতি বা অসততা সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে, পর্যবেক্ষক আবেদন অনুমোদন করবে না ইসি। পাশাপাশি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগে-পরে এবং নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত রয়েছে নীতিমালায়।
কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈধতা দিতে ভাড়া করে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী নিয়ে আসে সরকার। বিদেশি কোনো রাষ্ট্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাষ্ট্রীয় খরচে ডেকে আনা হয় এসব বিদেশি নাগরিককে। নির্বাচনগুলো বিতর্কিত হলেও এসব পর্যবেক্ষক নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর বলে আখ্যায়িত করে। এমনটা হলে সবার কাছে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে তপশিল ঘোষণার আগে বছরের যে কোনো সময় ভোটার তালিকা প্রকাশ ও সংশোধন করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আইন সংশোধন করেছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। এতদিন নিয়ম ছিল, প্রতি বছর ২ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পর ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এটাও নির্বাচনমুখী যাত্রার আরেকটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক ইসির তৎপরতা আশাব্যঞ্জক বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমাদের প্রত্যাশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য দেশের ইতিহাসের সেরা এক নির্বাচন। আর তা নিশ্চিত করতে ইসির স্বাধীনতা ও সর্বাত্মক ক্ষমতার বিকল্প নেই। এটি নিশ্চিত করার পথে নতুন এ নীতিমালা এবং ইসির অপরাপর সক্রিয়তাকে শুভ লক্ষণই বলা চলে। স্মরণে রাখতে হবে, ইসির দেওয়া সব তথ্য যাচাই করার যে বিধান রাখা রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে, তাতে নির্বাচন যেন প্রভাবিত না হয় এ বিষয়টিও নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ জরুরি। আমাদের বিশ্বাস, নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিগত সময়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার যে অভিযোগ রয়েছে, সে সম্ভাবনা দূর হবে।
মন্তব্য করুন