কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাণিজ্য

স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাণিজ্য

ডাক্তারের কাছে গেলেই দেওয়া হয় একাধিক পরীক্ষা। আবার বেশি পরীক্ষার ফলই আসে ভুল। দেশে প্রতি বছর চিকিৎসার পেছনে রোগীদের যত অর্থ ব্যয় হয়, তার বড় অংশই যায় রোগ নির্ণয়ে। এসব রোগ নির্ণয়ের সিংহভাগই হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, যেখানে সরকারি হাসপাতালের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ হয়। এ তথ্য খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের। আর এই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকে। সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার পরও বর্তমানে দেশের ৮৫ শতাংশ রোগী বেসরকারি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। দেশের সরকারি হাসপাতালের ২০-২৫ শতাংশ চিকিৎসক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠিয়ে বিশেষ সুবিধা নেন। এ কাজে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে কনসালট্যান্ট, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকরা। তবে অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনেকে এড়িয়ে যান। দেখা গেছে, যত বড় নামকরা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসকদের কমিশন প্রদানের হার তার তত বেশি। এ অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকরা লাভবান হলেও চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর দারিদ্র্যসীমায় চলে যাচ্ছে অর্ধকোটি মানুষ।

কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারক বা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি চিকিৎসকদের বিভিন্ন সুবিধা যেমন—বাড়ি, গাড়ি, অর্থ ইত্যাদি দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি, ওভেন, কম্বল, সোফা সেট, ডিনার সেট, শাড়ি, পাঞ্জাবি, গিফট ভাউচার ইত্যাদি। যাতে সেসব চিকিৎসক তাদের কোম্পানির ওষুধ বা সেবার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং রোগীদের সেসব ওষুধ বা সেবা ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করেন। এটি এক ধরনের অনৈতিক এবং বেআইনি কার্যকলাপ, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও আস্থার অভাব তৈরি করে। আর এসব কারণেই রোগীদের অনর্থক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে চিকিৎসকদের অনুরোধ জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘অনেক চিকিৎসক অনর্থক টেস্ট দেন। এ অত্যাচার বন্ধ হয়নি। গরিব রোগীদের অনর্থক ১৪-১৫টি টেস্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা দরকার। চিকিৎসা খাতে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজার আছে। এ বাজার আপনাদের নেওয়া উচিত। কেন মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চায়? ভারত, ব্যাংককে এমন মানুষও চিকিৎসা নিতে যায়, যারা কখনো ঢাকায় আসেনি। তারা বিরক্ত ও নিরুপায় হয়ে যায়। দেশে সেবা পেলে মানুষ কখনোই বিদেশ যাবে না।’

শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘একটি সাধারণ অভিযোগ খুবই হৃদয়বিদারক—নার্সদের ব্যবহার খারাপ। নার্সদের মন খারাপ থাকে, হাসপাতালের কর্মচারীদের মন খারাপ থাকে, তারা ক্ষিপ্ত হয়ে থাকেন, ভালো সেবা দিতে চান না। কেন চান না? নার্সদের বেতন ১২ হাজার টাকা। নার্স যদি ১২ হাজার টাকা বেতন পান, তাহলে কী ভালো সেবা দেবেন?’

আমরা মনে করি, অর্থনৈতিক বৈষম্যের পরই সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য খাতের বৈষম্য। সরকারি-বেসরকারিসহ লাভজনক-অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সবাই মিলে ১৮ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া চলমান। এ প্রক্রিয়ায় নিজ অবস্থান থেকে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায়সংগত মুনাফা নিশ্চিতে নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করা গেলে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম কিছুটা হলে বন্ধ করা যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অপু থেকে বুবলী : সন্তান প্রসঙ্গে কেন বারবার একই চিত্র?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির ব্যাখ্যা

পুকুরে মিলল মাদ্রাসাছাত্রের লাশ

১৯৭১ : একটি গ্রামের গল্প

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল বিতরণ

রাতের মধ্যে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব জেলায়

ডিজিটাল মাধ্যমেও নারী-শিশুরা নিরাপদ নয় : নিপুণ রায় 

আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, আটক ৫

ময়লাবাহী ট্রাকচাপায় যুবদল ও ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

সরকার অনিয়মের নির্বাচন করলে মুখ থুবড়ে পড়বে : জাতীয় পার্টির মহাসচিব

১০

সোলার এনার্জিতে উজ্জ্বল পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া, কমছে বিপুল বিদ্যুৎ বিল

১১

আর্মি স্টেডিয়ামে কূটনৈতিক কোর ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রীতি ম্যাচ

১২

প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা : অধ্যাপক ডোনার

১৩

যে জয়ের কথা স্মরণ করলেন মাশরাফি

১৪

সন্তানসহ জীবন বিসর্জন দিলেন মা

১৫

প্রথমবারের মতো উদ্ধার অভিযানে স্পিডবোট ড্রোন ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র

১৬

লোকসংগীত শিল্পী সোহাগের রয়্যালটির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

১৭

ঢাকা শহরে স্মার্ট পোস্ট বক্স বসাবে সরকার

১৮

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে 

১৯

আ.লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ : ছাত্রলীগের ৮৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

২০
X