

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় গরু সন্দেহে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আখি মনি দুই জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা চরশৌলমারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চর ইটালুকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আলিয়ার হোসেনসহ ২জন সদস্য চর ইটালুকান্দা গ্রামে এসে শুকুর আলীর পালিত ৫টি গরু ভারতীয় বলে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গরুর মালিকসহ এলাকাবাসী বিজিবিকে বাধা দেয়।
একপর্যায়ে বিজিবি-এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বিজিবির মারধরের শিকার হয়ে আখি মনি নামের এক নারী আহত হয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গরুর মালিক শুকুর আলীর স্ত্রী জয়গুন বেগম অভিযোগ করে কালবেলাকে বলেন, কারও মিথ্যা তথ্য শুনে আমার ঘরের পালিত ৫টি গরু ভারতের বলে দাবি করে ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা এসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আমার পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী বাধা দিলে আমার বড় মেয়ে আখি মনিকে আঘাত করে। এ ছাড়াও ছোট মেয়ে স্কুল ছাত্রী শ্যামলী আক্তারকেও আঘাত করেন তারা।
চশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ভারতীয় গরু সন্দেহে বিজিবি এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তা সত্য। তবে গরুগুলো ভারতীয় নয় এবং তারা চোরাকাবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন কালবেলাকে জানান, গরু ধরা নিয়ে বিজিবি-এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোনায়েম কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির কোনো সদস্য আহত হয়নি। তবে বিজিবির সদস্যের জামা (পোশাক) ধরে টানাটানি করে ছিঁড়ে ফেলেছে।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কিছু ঘটেনি। তাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী কালবেলাকে জানান, ঘটনা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
মন্তব্য করুন