টম স্ট্যান্ডেজ
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাম্প যতদিন আছেন, এ প্রভাব থাকবে

ট্রাম্প যতদিন আছেন, এ প্রভাব থাকবে

বিশ্ব এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের, আমরা সবাই শুধু এখানে বসবাস করছি। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক রাজনীতিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে এই ‘ডিসরাপ্টর-ইন-চিফ’। (ডিসরাপ্টর-ইন-চিফ বলতে এমন একজন শীর্ষ ক্ষমতাধর নেতাকে বোঝানো হয়—যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত নিয়ম, প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক রীতি ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে দেন বা ওলটপালট করে দেন)। ডোনাল্ড ট্রাম্প যতদিন হোয়াইট হাউসে থাকবেন, ততদিন এ প্রভাব অব্যাহত থাকবে। তিনি প্রচলিত নিয়ম ভেঙে দেওয়ার কৌশল কোথাও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (যেমন বাণিজ্যে), আবার কোথাও কূটনৈতিক সাফল্য এনেছে (যেমন গাজায়) এবং কোথাও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে (ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে)। ২০২৬ সালে ‘ট্রাম্পনেডো’ ঘূর্ণাবর্ত চলতেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বছরে নজর দেওয়ার মতো দশটি প্রবণতা ও বিষয় তুলে ধরা হলো।

আমেরিকার ২৫০ বছর: যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী বর্ণনা তুলে ধরবে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা আমেরিকার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাদের রায় দেবেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ জিতলেও ট্রাম্পের দাপট, শুল্ক আর নির্বাহী আদেশনির্ভর শাসন চলতেই থাকবে।

ভূরাজনৈতিক ভাসমান অবস্থা: পররাষ্ট্রনীতির বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে একমত নন। কেউ মনে করেন, বিশ্ব কি আবার আমেরিকা ও চীনের নেতৃত্বে দুই শিবিরে বিভক্ত একটি নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে? আবার কেউ ভাবছেন, ট্রাম্পধাঁচের কোনো সমঝোতার মাধ্যমে বিশ্বকে আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের প্রভাবক্ষেত্রে ভাগ করে দেওয়া হবে কি না। যেখানে প্রত্যেকে নিজের এলাকায় যা খুশি তা-ই করতে পারবে? এই দুই সম্ভাবনার কোনোটির ওপরই ভরসা করা ঠিক হবে না। ট্রাম্প বড় কোনো ভূরাজনৈতিক তত্ত্ব বা কাঠামোর ওপর নির্ভর করেন না। তিনি তাৎক্ষণিক বোধ ও লাভ-ক্ষতির হিসাবভিত্তিক সিদ্ধান্তকেই বেশি গুরুত্ব দেন। এর ফলে পুরোনো নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে আরও দুর্বল ও ভেঙে পড়বে। তবে একই সঙ্গে ইচ্ছুক দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে জোট বেঁধে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও জলবায়ুর মতো বিষয়ে নতুন নতুন সমঝোতায় পৌঁছাবে।

যুদ্ধ না শান্তি? দুটোই: ভাগ্য ভালো হলে গাজায় ভঙ্গুর শান্তি টিকে থাকতে পারে। কিন্তু ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারে সংঘাত চলবে। রাশিয়া ও চীন উত্তর ইউরোপ ও দক্ষিণ চীন সাগরে ‘গ্রে-জোন’ উসকানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতি তার অঙ্গীকার পরীক্ষা করবে। যুদ্ধ ও শান্তির সীমারেখা ঝাপসা হতে থাকায় আর্কটিক, মহাকাশ, সমুদ্রতল ও সাইবার জগতে উত্তেজনা বাড়বে।

ইউরোপের সংকট: এ সবকিছু মিলিয়ে ইউরোপের সামনে বড় ধরনের পরীক্ষা এসে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপকে একদিকে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে, অন্যদিকে আমেরিকাকে পাশে রাখতে হবে, জোরদার করতে হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিশাল বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে হবে। যদিও কড়াকড়ি ব্যয়নীতি নিলে কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর সমর্থন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে ইউরোপ চায় মুক্ত বাণিজ্য ও পরিবেশবান্ধব নীতির প্রধান সমর্থক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে। কিন্তু এসব লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রতিরক্ষা খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় হয়তো প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়াতে পারে, তবে তার প্রভাব হবে সীমিত।

চীনের সুযোগ: চীনেরও নিজস্ব সমস্যা রয়েছে, যেমন মূল্যহ্রাস, ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্প ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎপাদন। তবুও ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চীনের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রভাব বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে। চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করছে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথে, যেখানে চীন একের পর এক বাণিজ্য চুক্তি করছে। চীন সয়াবিন বা চিপের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সঙ্গে সাময়িক চুক্তি করতে আগ্রহী। মূল চ্যালেঞ্জ হবে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ককে উত্তেজনাপূর্ণ না রেখে কেবল ব্যবসায়িকভাবে পরিচালনা করা।

অর্থনৈতিক উদ্বেগ: ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পরও এখন পর্যন্ত আমেরিকার অর্থনীতি অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে সহনশীল। তবে এই নীতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করতে পারে। একই সঙ্গে ধনী দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক সীমার বাইরে জীবনযাপন করার কারণে বন্ড বাজারে সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। মে মাসে জেরোম পাওয়েলকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিস্থাপনের বিষয়টি ওপর অনেককিছু নির্ভর করবে; ফেডের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জন্য অবকাঠামোতে ব্যাপক খরচ সম্ভবত আমেরিকার অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে ঢেকে রাখছে। এই বুদবুদ কি ফেটে যাবে? যেমন রেলপথ, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, এমন একটি ধস প্রযুক্তির প্রকৃত মূল্য কমায় না। তবে এটি অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। যেভাবেই হোক, এআইয়ের কারণে বিশেষভাবে স্নাতক পর্যায়ের চাকরিতে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

জলবায়ুর মিশ্র চিত্র: বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশকিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য এখন আর বাস্তবসম্মত নয়। উপরন্তু, ট্রাম্প নবায়নযোগ্য জ্বালানির ঘোর বিরোধী। তবুও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ সম্ভবত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোয় পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বা ক্লিন টেকের দ্রুত বিস্তার ঘটছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার ইঙ্গিত দেয়। বহু কোম্পানি তাদের নির্ধারিত জলবায়ু লক্ষ্য পূরণ করছে, এমনকি কোথাও কোথাও লক্ষ্য ছাড়িয়েও যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরাগ এড়াতে তারা এসব সাফল্য প্রকাশ্যে তেমনভাবে তুলে ধরছে না। অর্থাৎ কাজ হচ্ছে, কিন্তু তা নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal energy) বিশেষভাবে নজরে রাখার মতো। এটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, পরিচ্ছন্ন এবং রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে থাকা একটি জ্বালানির উৎস, যা ভবিষ্যতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

খেলাধুলার মূল্যবোধ: খেলাধুলা কি সবসময় রাজনীতি থেকে সাময়িক মুক্তি দেয়? সাধারণভাবে আমরা তাই ভাবি। কিন্তু ২০২৬ সালে বিষয়টি তেমন নাও হতে পারে। ওই বছর ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো। এই তিনটি দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমানে বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব খেলাধুলার ওপরও পড়তে পারে। ফলে অনেক সমর্থক নিরাপত্তা, ভিসা বা রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

এর চেয়েও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে আয়োজিত হতে যাওয়া এনহ্যান্সড গেমস (Enhanced Games)। এ প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য নিষিদ্ধ ওষুধ বা ড্রাগ ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। এতে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি প্রতারণা, নাকি খেলাধুলার নতুন সংস্করণ? কেউ কেউ বলছেন, এটি খেলাধুলার নৈতিক ভিত্তিকে আঘাত করবে। আবার অন্যদের মতে এটি কেবল মানব সক্ষমতার সীমা নতুনভাবে পরীক্ষা করার একটি ভিন্ন পথ। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে খেলাধুলাও রাজনীতি, নৈতিকতা ও বিতর্কের বাইরে থাকবে না। বরং এসব বিষয় আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে।

ওজেম্পিক—কিন্তু আরও উন্নত: আরও কার্যকর ও তুলনামূলকভাবে সস্তা ‘জিএলপি-ওয়ান’ শ্রেণির ওজন কমানোর ওষুধ আসছে, তাও আবার ট্যাবলেট আকারে। এর ফলে এসব ওষুধের ব্যবহার আরও সহজ হবে এবং অনেক বেশি মানুষের নাগালে পৌঁছাবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। এ ওষুধ ব্যবহার করা কি এক ধরনের ‘চিটিং’ বা শর্টকাট নেওয়া?

‘জিএলপি-ওয়ান’ ওষুধগুলোর পারফরম্যান্স বাড়ানো নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। আগে এ বিতর্ক মূলত ক্রীড়াবিদ বা বডিবিল্ডারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। কারণ, খুব কম মানুষই অলিম্পিকে প্রতিযোগিতায় যায়। কিন্তু প্রায় যে কেউই চাইলে ওজেম্পিকের মতো ওষুধ ব্যবহার করতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও সৌন্দর্যের সীমা কোথায়! আর সেখানে প্রযুক্তি বা ওষুধের ভূমিকা কতটা গ্রহণযোগ্য?

এ বিতর্কে আপনি যেদিকেই অবস্থান নিন না কেন, আশা করা যায় ‘The World Ahead 2026’ আপনাকে আগামী দিনের বিশ্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে। এটি যেন আপনার দৈনন্দিন সংবাদ গ্রহণের তালিকায় একটি কার্যকর ও মূল্যবান ‘পরিপূরক’ হিসেবে কাজ করে, যা আপনাকে ভাবতে সাহায্য করবে, বুঝতে শেখাবে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেবে।

লেখক: দ্য ইকোনমিস্টের ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণধর্মী বার্ষিক প্রকাশনা দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাহেড ২০২৬-এর সম্পাদক। নিবন্ধটি দ্য ইকোনমিস্ট থেকে অনুবাদ করেছেন আবিদ আজাদ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা : রবিন

বিএনপি নেতা আনম সাইফুলের মা জাহানারা বেগম আর নেই

ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না আমিরাত

সবার জন্য ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের বাংলাদেশ গড়া হবে : জামায়াত আমির

যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি সই : জেলেনস্কি

ইরান ইস্যুতে ইরাক থেকে হুমকি পেল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করল আইসিসি

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, ভরিতে বাড়ল ৫ হাজার

অভিনয় ছেড়ে দুবাইয়ে ব্যবসায় মজেছেন অভিনেত্রী

জামিন পেলেও এখনই মুক্তি মিলছে না সাদ্দামের

১০

নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালার দ্বিতীয় আসর সম্পন্ন 

১১

‘ইয়ামাল অন্য গ্রহের খেলোয়াড়’

১২

ছাদখোলা বাসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে বরণ, উৎসবে মাতল পুরো নগরী

১৩

নন-ক্যাডার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৪

একুশে বইমেলা ২০২৬ / প্রকাশকদের অনুরোধে স্টল ভাড়া কমল যত

১৫

গাজায় শেষ বন্দির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

১৬

জামায়াত নেতার ছেলেকে রিভলবার ঠেকিয়ে বাড়িতে লুট

১৭

ইতিহাস গড়লেন রিয়াল ব্রাত্য এনদ্রিক

১৮

আবারও হুঙ্কার থালাপতির, বললেন তাকে থামানো যাবে না

১৯

প্রেমিকের স্ত্রীকে এইচআইভি ইনজেকশন পুশ করলেন তরুণী

২০
X