কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

তেলের জন্য ঘুরতে হয় দোকানে দোকানে

বাজার পরিস্থিতি
তেলের জন্য ঘুরতে হয় দোকানে দোকানে

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান মাস। প্রতি বছর রমজানের আগমুহূর্তে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি যেন অবধারিত। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ বেগুন, শসা, লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বেসন, খেজুর, ছোলা, চিড়া, মুড়ি, চিনি, গুড়ের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে সংকট রয়েছে ভোজ্যতেলের। ভোজ্যতেল মজুত করে দাম বাড়ানো নিয়ে রয়েছে অভিযোগও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসের শেষে বাড়তি চাহিদার কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, মহাখালী, শাহজাহানপুর ও খিলগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে পণ্যের দরদামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ভোক্তাদের এখনো ঘুরতে হচ্ছে দোকানে দোকানে। পাওয়া গেলেও মিলছে না গায়ে লেখা দরে। আটা, ময়দা, পোলাওয়ের চাল না কিনলে, সয়াবিন তেলের সরবরাহ করছেন না ডিলাররা। এমন অভিযোগ করছেন খুচরা বিক্রেতারা। কয়েক দোকান ঘুরে একটিতে সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও পাঁচ লিটারের গ্যালনের দাম ৮৫০ টাকা চাচ্ছেন দোকানি। অন্যদিকে খোলা সয়াবিনের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।

মুদি দোকানি মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, বাজারে শুধু তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা কাওরান বাজার থেকে তেল নিয়ে আসি। সেখানে ফ্রেসের ডিস্ট্রিবিউটর আছে। আগে আমরা দুই কার্টন তেল নিয়ে আসতাম। এখন তেল দেয় দু-তিন পিস। এখন ৮৫০ টাকায় যে তেল বিক্রি করতে হয়, সেটি কিনতে হচ্ছে ৮৪৬ টাকায়। পরিবহন খরচসহ তাহলে কত টাকা লাগে? আমরা ২০ টাকা বেশি বললে, তখন ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের ধরে।

বেড়েছে সবজির দাম: দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি টক টমেটো ৩০ টাকা, দেশি গাজর ৩০, শিম ৪০ থেকে ৫০, লম্বা বেগুন ৬০, সাদা গোল বেগুন ৬০, কালো গোল বেগুন ৭০, শসা ৪০ থেকে ৬০, উচ্ছে ৮০, করলা ১০০, পেঁপে ৪০, মুলা ২০, লাল মুলা ৩০, শালগম ৩০, ঢ্যাঁড়শ ১০০, পটোল ১৫০, চিচিঙ্গা ৬০, ধুন্দল ৬০, ঝিঙা ৬০, বরবটি ৮০, পেঁয়াজকলি ৪০, কচুরলতি ১০০, কচুরমুখী ১০০, মিষ্টিকুমড়া ৩০, কাঁচামরিচ ৮০ এবং ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৬০, ফুলকপি ৪০ এবং বাঁধাকপি ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচাকলা ২৫ টাকা, লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। এক মাস আগের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রতি সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

কমেছে আলু-পেঁয়াজের দাম: বাজারে মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এর মধ্যে ছোট আকারের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং বড় আকারের পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শুক্রবার প্রতি কেজি নতুন সাদা আলু বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং নতুন লাল আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। নতুন বগুড়ার আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া নতুন দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ২৪০, চায়না আদা ২০০ থেকে ২২০ এবং নতুন ভারতীয় আদা ১৪০ দরে বিক্রি হয়।

এক মাসে মানভেদে প্রতি কেজি নতুন দেশি সাদা আলুর দাম কমেছে ৫ টাকা, নতুন দেশি লাল আলুর দাম কমেছে ৫ টাকা করে। আর নতুন বগুড়ার আলুর দাম কমেছে ৫ টাকা। পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি চায়না রসুনের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

স্বস্তি ফেরেনি মাংসের বাজারে: মাংসের দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে। এ ছাড়া শুক্রবার ওজন অনুযায়ী ব্রয়লার মুরগি ১৯৭ থেকে ২১০ টাকা, কক মুরগি ২৭০ থেকে ২৯৫, লেয়ার মুরগি ৩০০, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, খাসির মাংস ৫০, ব্রয়লার মুরগির ৪ থেকে ১০, লেয়ার মুরগির ১০ থেকে ১২ এবং দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। এদিকে কক মুরগির দাম কমেছে ২০ থেকে ৩৫ টাকা। প্রতি ডজনে সব ধরনের ডিমের দাম কমেছে ১০ টাকা।

মাছের বাজারেও একই অবস্থা। বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০, কাতল ৩৫০ থেকে ৫০০, কালিবাউশ ৪০০ থেকে ৬০০, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০, কাঁচকি ৪০০, কৈ ২০০ থেকে ১ হাজার, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০, শিং ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০, টেংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার, বোয়াল ৫০০ থেকে ১ হাজার, শোল ৬০০ থেকে ৮০০, মেনি ৬০০, চিতল ৭০০ থেকে ১ হাজার, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৪০০ এবং রূপচাঁদা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।

এদিকে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। একই সঙ্গে খেসারির ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা ও মসুর ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাস দুই আগে চিনির দাম উঠেছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। এখন তা কিছুটা কমে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজান ঘিরে বাজারে মুড়ি ও খেজুরের চাহিদাও বাড়ে। বাজারে এখন প্রতি কেজি মুড়ি ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরও এমন দাম ছিল বলে জানান বিক্রেতারা। চিড়া প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, নরম গুড় ১৮০ ও শক্ত গুড় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রূপসা সেতুর নিচ থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার

চবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান চসিক মেয়র শাহাদাত

কুকুর ঘেউ ঘেউ করায় মালিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আটক ১৪ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ

উচ্চশিক্ষায় গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : রুয়েট উপাচার্য

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি : আদীব

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কেএসআরএমের ট্রাফিক সাইন হস্তান্তর

ইয়েমেনে হুতিদের নতুন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিফতাহ

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বাকৃবি

১০

বুধবার ঢাকায় জোহরের নামাজের ইমামতি করবেন আল্লামা পীর সাবির শাহ্

১১

‘নির্বাচন নিয়ে কেউ বিকল্প ভাবলে তা হবে বিপজ্জনক’

১২

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে ফখরুলের বার্তা

১৩

মেক্সিকোয় নিখোঁজ ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ, কী ঘটেছে তাদের ভাগ্যে?

১৪

হঠাৎ বিমানের দরজা খুলে দিল যাত্রী, অতঃপর...

১৫

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ

১৬

সরকারকে আমরা ব্যর্থ হতে দেব না : রাশেদ খাঁন

১৭

নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে : তারেক রহমান

১৮

রাবি শিবির সভাপতির বুকে বোতল নিক্ষেপ

১৯

দেশের জনগণ এখন নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে : দুলু

২০
X