শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
মাহমুদ হাসান টিপু, ঝিনাইদহ
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:২২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জনবল সংকটে ধুঁকছে চিকিৎসালয়

হাসপাতালে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্র

ঝিনাইদহ
হাসপাতালে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্র

প্রতিটি তিনতলা ভবন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত, বসানো হয়েছে শয্যা, রয়েছে চিকিৎসক ও স্টাফদের জন্য ডরমিটরি। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে বিকল্প ব্যবস্থায় চালু রয়েছে জেনারেটরও। গর্ভবতী মায়েদের সিজার এবং নবজাতকের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এসব হাসপাতাল এখন জনবল সংকটে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ।

এমনই দশা ঝিনাইদহ জেলার ৪টি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এসব হাসপাতাল নির্মাণে প্রতিটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও আজও সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।

জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসর, সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এবং শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত এই হাসপাতালগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অচল অবস্থায়। হাসপাতাল ভবনগুলোর কাঠামো নিখুঁত, রয়েছে চিকিৎসকের চেম্বার,

নার্স রুম, ফার্মেসি, ল্যাব, কাউন্সেলিং রুম, ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও অন্যান্য সহায়ক কক্ষ। কিন্তু এসব সুবিধা থাকলেও জনবল না থাকায় সেখানে কোনো চিকিৎসা কার্যক্রমই পরিচালিত হচ্ছে না।

বর্তমানে এসব ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নেই চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, আয়া, এমনকি নৈশপ্রহরীও। ওষুধেরও চরম সংকট রয়েছে। শুধু সীমিত কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ ছাড়া কোনো দৃশ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু নেই।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রহিমা বেগম, রিনা বেগম, চম্পা বেগমসহ স্থানীয় নারীরা জানান, উদ্বোধনের পর তারা বহু আশা নিয়ে এলেও এখানে চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই, রোগী ভর্তি বা অপারেশন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিপদের সময় পরিবার নিয়ে ছুটতে হয় জেলা সদর হাসপাতালে কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়তে হয় পরিবারগুলোকে। এমনকি সময় মতো সেবা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম বলেন, ‘২০১৮ সালে হাসপাতালগুলো উদ্বোধন হলেও জনবল সংকটে সেগুলো এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে চালু রয়েছে, তবে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করার মতো অবস্থা এখনো হয়নি।’

এত বড় অবকাঠামো ও সরকারি বিনিয়োগ সত্ত্বেও কার্যকর চিকিৎসাসেবা না থাকায় হতাশ স্থানীয় জনগণ। তারা দ্রুত এসব হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার নোরা ফাতেহির ফেক ভিডিও ভাইরাল

সেমির লড়াইয়ে মাঠে নামল স্পেন-বেলজিয়াম

বিতর্কের পর বিশ্বকাপে ভিএআরে বড় পরিবর্তন আনল ফিফা

বাঁশখালীর বন্যার্ত মানুষের পাশে ঢাবি ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দিন শাওন

‘শুধু হিন্দুরাই বৃত্তি পেয়েছে’ দাবিতে ভুল তথ্য ভাইরাল

কক্সবাজারে ২০০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৬ লাখ মানুষ

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাতিয়ার ৮০ গ্রাম, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ

বিএআরএফের সভাপতি নিজামুল হক, সম্পাদক কাওসার আজম 

হাওরে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ

রেলস্টেশনে বাক্‌প্রতিবন্ধী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

১০

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সংরক্ষণের প্রত্যয় সাবকন্টিনেন্ট ফ্রেন্ডস অব ক্যাম্পবেলটাউনের

১১

সরকারি কেয়ার সেন্টারে শিশু অন্তঃসত্ত্বা, ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

১২

‘স্ট্যান্টবাজি করতেই ১১ দল তিস্তা নিয়ে আন্দোলনের কথা বলছে’

১৩

বিটিভিতে বিরোধীদলীয় নেতার খবর, বদলাচ্ছে চিরাচরিত ধারা

১৪

বন্যার ঝুঁকিতে আরও ৫ জেলা

১৫

‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নেতানিয়াহুর এখন নতুন শত্রু দরকার’

১৬

যার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা, সেই রিয়াজ কারাগারে

১৭

ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, স্ত্রী হাসপাতালে

১৮

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান

১৯

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ দেশ উসকানি দিয়েছে: রাশিয়া

২০
X