

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছাত্রদলের সাবেক নেতার ওপর দফায় দফায় হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং পিস্তল তাক করে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গাজীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী (৫২) টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার ধীরাশ্রম ও রাজবাড়ী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
আইয়ুব আলী জানান, গত বছরের ২৮ জুলাই তার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি টঙ্গীর আমতলী হিমারদীঘি এলাকার চোরাই মালামাল ব্যবসায়ী আব্বাস আলী (৫৫), তার ছেলে রাকিব (২৫), রাতুল (২০) ও হৃদয়কে (১৯) আসামি করে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, চাপ ও হুমকির বিষয়ে তিনি গত বছরের ৩ আগস্ট টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। বুধবার সকালে অভিযুক্ত আব্বাস আলী ও তার সহযোগীরা গাজীপুর জজকোর্টে মামলার হাজিরা দিতে গেলে আইয়ুব আলীও জব্দকৃত মালামাল নিজ জিম্মায় নেওয়ার জন্য আদালতে যান। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে আহত অবস্থায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি গাজীপুর সদর থানায় আব্বাস আলী গংয়ের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
আইয়ুব আলীর অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের শেষে টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি এলাকার মরকুনে নিজ বাসায় ফেরার পথে ধীরাশ্রম এলাকায় আবারও অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং পিস্তল তাক করে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্বাস আলীর ছেলে রাকিব হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আইয়ুব আলীর ওপর আমরা কোনো হামলা করিনি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
গাজীপুর সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন