বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার ও বাঁধাইয়ের কারণে বিগত বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রেস কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কিন্তু সর্বোচ্চ সংখ্যক বই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েও বছর বছর নিম্নমানের বই সরবরাহ করেছে এমন দুটি প্রেসকে শাস্তির আওতায় আনেনি সংস্থাটি। এমনকি অভিযোগের পাহাড় জমলেও তাদের কাজ দিতে ‘উপরের নির্দেশ’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান। এমনকি এবারও প্রাথমিকে সর্বোচ্চ সংখ্যক বই ছাপানোর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে ওই দুটি প্রেস। তাই তাদের বেশি বই ছাপানোর কাজ না দেওয়ার পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক সাইদুর রহমানের অপসারণ দাবি করেছে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে মুদ্রণ শিল্প সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলেন সমিতির নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত বলেন, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সহযোগিতায় সক্ষমতার বাইরে কার্যাদেশ পাওয়া অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস এবং কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স নিম্নমানের কাগজে পাঠ্যবই ছাপায়। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা জমা দিয়েছে চার-পাঁচ মাস পরে। ২০২২ সালেও তারা একই কাজ করে। কিন্তু এনসিটিবি এ বিলম্ব নথিভুক্ত না করে যথাসময়ে সরবরাহ করেছে বলে নথিভুক্ত করে। সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশে এই অনিয়মটি হয়েছে। এরপরও নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহ এবং বিলম্বের জন্য তাদের বিরুদ্ধে এনসিটিবি কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরা এ বিষয়ে সোচ্চার হলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, ‘এটা উপরের নির্দেশ’। আমরা এই দুর্নীতির হোতা এনসিটিবি চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ চাই।
তিনি বলেন, বিনামূল্যের বই ছাপার সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ প্রিন্টার্স প্রতিষ্ঠান রাজধানী ও এর আশপাশে। কিন্তু অগ্রণী প্রিন্টার্সের অফিস নোয়াখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এর আগে এ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছে এনসিটিবি ও পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। গত বছর এ প্রতিষ্ঠান কোন কাগজ দিয়ে বই ছাপিয়েছে, কী করেছে তারও কোনো মনিটরিং হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এসময় ছিলেন মুদ্রণ শিল্প সমিতির উপদেষ্টা ওসমান গণি বাবুল, সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান, বর্তমান কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম বাহার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. রব্বানী জব্বার প্রমুখ।
মন্তব্য করুন