আলী ইব্রাহিম
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৩ এএম
আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ডেড পণ্য কোথায় যায় দেখবে এনবিআর

কনটেইনারে বসছে জিপিএস লক
বন্ডেড পণ্য কোথায় যায় দেখবে এনবিআর

বন্ডেড পণ্য কাস্টম হাউস থেকে বের করে প্রায়ই খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। রাত জেগে প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম পরিচালনা করে আটক করা হয় সেসব পণ্য। এ অনিয়ম ঠেকাতে এবার অ্যানালগ সিস্টেম থেকে বেরিয়ে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ব্যবহার করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে কাস্টম হাউস থেকে বেরিয়ে পণ্যবাহী কনটেইনারগুলো কোথায় যাচ্ছে, আদৌ ওয়্যারহাউসে যাচ্ছে কি না, তা জানা যাবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত বিধিমালাও সম্পন্ন করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্ডের অপব্যবহার রোধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিলেও বছর শেষে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে বন্ডেড পণ্য কাস্টম হাউস থেকে বেরিয়ে কোথায় যাচ্ছে, এর কোনো সঠিক তথ্য ছিল না শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছে। প্রতিষ্ঠান মালিক যে তথ্য দিতেন, তাই মেনে নিতে হতো। এখন থেকে বন্ডেড পণ্যবাহী এসব কনটেইনারে থাকবে জিপিএস সিল ও লক। কোনো প্রতিষ্ঠান এই সিল বা লক ঘষামাজা বা কোনো ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিলেই শাস্তির মুখে পড়বে। এ ছাড়া যেসব অপারেটরের মাধ্যমে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলো সেবা নেবে, তাদের ৫ কোটি টাকা সমপরিমাণে জামানত রাখতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি বিধিমালা তৈরি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।

একাধিক শুল্ক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে আসছে। কাস্টম হাউস থেকে বন্ড সুবিধায় পণ্য এনে রপ্তানি না করেই খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মূলত বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ করতেই এনবিআর এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বন্ডেড পণ্যবাহী কনটেইনারের অবস্থান সহজেই নির্ণয় করা যাবে। এসব পণ্য ওয়্যারহাউসে যাচ্ছে কি না, তাও ডাটা সেন্টারে বসে জানা যাবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনার মনিটরিংয়ের জন্য ইলেকট্রিক সিল ও লক সেবা বিধিমালা-২০২৪ নামে জারি করা এই বিধিমালায় আরও কিছু সংযোজন নিয়ে এসেছে এনবিআর। এতে বলা হয়েছে, জিপিএসযুক্ত ইলেকট্রিক সিল বা লক সেন্ট্রাল মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে খোলা ও বন্ধ করা যাবে। আর শুল্ক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বা অনুমতি সাপেক্ষে এই সিল ও লক খোলা যাবে। এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম। এই বিধিমালার আওতায় গঠিত হবে এই টিম। এ ছাড়া মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে সেন্ট্রাল মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। যাতে অফিসে বসেই কনটেইনার মনিটরিং করা যায়। আর এই বিধিমালার অধীনে এনবিআর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও নিয়োগ দেবে। এ ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে পারবে এনবিআর। সে ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকা সমপরিমাণে জামানত এনবিআরে রাখতে হবে। আর নিয়োগের সময়সীমা হবে পাঁচ বছর। নিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের অনিয়ম করলে জরিমানার পাশাপাশি চুক্তিও বাতিল করতে পারবে এনবিআর। এ ছাড়া সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সেন্ট্রাল মনিটরিং সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠাবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান সেবা নেবে তারা এই সিল ও লকের কর্মকর্তাদের অনুমতি ব্যতীত খুলতে বা পণ্য অপসারণ করতে পারবে না বলেও বিধিমালায় বলা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

নাক ডাকা বন্ধ করার ৭ সহজ উপায়

৩০ আগস্ট : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

আট মাসে ইরানে ৮৪১ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চার সেনাকে খুঁজে পাচ্ছে না ইসরায়েল

জ্ঞান ফিরেছে নুরের

বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা

টাক মাথায় চুল গজাবে পেয়ারা পাতায়

জনগণের কল্যাণই তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য : মিল্টন ভুইয়া

আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব জেলায়

১০

রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর

১১

ডিএমডি পদে আইএফআইসি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

১২

ঢাকায় বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

১৩

৩০ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১৫

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল নিজেই জমা হবে অনলাইনে, কতটা ভালো?

১৬

ভিডিও তৈরির যে অ্যাপ সবার জন্য উন্মুক্ত করল গুগল

১৭

ময়মনসিংহে জাপার অফিস ভাঙচুর

১৮

গণঅধিকার পরিষদের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

১৯

স্বাস্থ্য পরামর্শ / মোটরযানের কালো ধোঁয়া ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি

২০
X