কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০২:৩৮ এএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিজ্ঞান

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রাচীন মহাসাগর

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রাচীন মহাসাগর

দূর আকাশে থাকা সেই ‘চাঁদ মামাকে’ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। কৌতূহল মেটাতে একবার চাঁদের মাটিতে পা-ও পড়েছিল মানুষের। কিন্তু তার পরও পৃথিবীর একমাত্র এ উপগ্রহকে নিয়ে চলছে মানুষের ক্লান্তিহীন গবেষণা। কী আছে সেই রহস্যময় উপগ্রহটিতে, সেখানে কি মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব ইত্যাদি প্রশ্ন সবসময় ঘুরপাক খায় মানুষের মনে। সেসব প্রশ্নের একটির জবাব পেয়ে গেছে মানবজাতি। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এবার ম্যাগমার প্রাচীন মহাসাগর খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, চাঁদের দক্ষিণ মেরু একসময় তরল গলিত শিলার সমুদ্রে ঢাকা ছিল। এ গবেষণার বিভিন্ন অনুসন্ধান এমন এক তত্ত্বকে সমর্থন করে, যেখানে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে চাঁদের পৃষ্ঠে ম্যাগমা গঠিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

২০২৩ সালের আগস্টে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করা ভারতের ঐতিহাসিক ‘চন্দ্রযান-৩’ মিশনেও এই ম্যাগমা সমুদ্রের অবশিষ্টাংশের দেখা মিলেছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি। এ মিশনের লক্ষ্য ছিল, চাঁদের এ বিচ্ছিন্ন ও রহস্যময় অঞ্চলটি খুঁজে দেখা, যেখানে এর আগে কোনো মহাকাশযান অবতরণ করেনি। এ অনুসন্ধানটি ‘লুনার ম্যাগমা ওশান’ নামের এক তত্ত্বকে সমর্থন করে থাকে, যার মূল বিষয় হচ্ছে চাঁদ কীভাবে গঠিত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে, সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে যখন চাঁদ গঠিত হয়, তখন এটি ঠান্ডা হতে শুরু করে ও ‘ফেরোয়ান অ্যানথোসাইট’ নামে পরিচিত একটি হালকা ধাঁচের খনিজ চন্দ্র পৃষ্ঠে ভেসে ওঠে। আর এই ‘ফেরোয়ান অ্যানথোসাইট’ বা গলিত শিলাই চাঁদের পৃষ্ঠ গঠন করেছিল। নতুন এ অনুসন্ধান নিয়ে কাজ করা গবেষণা দলটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ফেরোয়ান অ্যানথোসাইটের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি। সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ড. সন্তোষ ভাদাওয়ালে বলেন, ‘চাঁদে প্রাথমিক বিবর্তনের তত্ত্বটি আমাদের পর্যবেক্ষণের আলোকে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।’ ভারতের ‘চন্দ্রযান-৩’ মিশনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে চাঁদের মধ্য-অক্ষাংশে ম্যাগমা মহাসাগরের অস্তিত্ব থাকার বড় প্রমাণ মিলেছিল। এদিকে, ‘চন্দ্রযান-৩’ মিশনের সময়ও মিশন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ভাদাওয়ালে ও তার গবেষণা দলটি। অধ্যাপক ভাদাওয়ালে বলেন, ‘সেটা সত্যিই রোমাঞ্চকর সময় ছিল। কন্ট্রোল রুমে বসে চন্দ্রপৃষ্ঠে রোভারটির চলাফেরা করানো—এটা সত্যিই অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা ছিল।’

গত বছরের আগস্টে ভারতের ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করার পর এর থেকে বেরিয়ে এসেছিল ‘প্রজ্ঞান’ নামের রোভারটি, যা ১০ দিন ধরে চাঁদের পৃষ্ঠের আশপাশে ঘুরে দেখেছে। সে সময় চাঁদের ৭০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য রোভারটিকে সার্বক্ষণিক নির্দেশ দিয়ে যেতেন অধ্যাপক ভাদাওয়ালে ও তার সহকর্মীরা। রোবটটি এমনভাবে তৈরি যাতে এটি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। পাশাপাশি, চাঁদের অসম ও ধুলাযুক্ত পৃষ্ঠে চলাচলের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও ছিল এতে। ‘আলফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার’ নামের এক যন্ত্র দিয়ে এটি সর্বমোট ২৩টি পরিমাপ নিয়েছে, যা মূলত বিভিন্ন পরমাণুকে সক্রিয় করে ও চাঁদের মাটিতে থাকা বিভিন্ন খনিজ থেকে শক্তি উৎপাদন সম্ভব কি না, সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। এ ছাড়া, গবেষণা দলটি চাঁদের এ অঞ্চলে চারশ কোটি বছর আগে আছড়ে পড়া এক বিশাল উল্কাপিণ্ডের অস্তিত্বও খুঁজে পেয়েছে। অনুমান বলছে, এ দুর্ঘটনার কারণে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ‘আইটকেন’ নামের অববাহিকা বা বেসিন তৈরি হয়েছে, যা সৌরজগতের অন্যতম বৃহৎ গর্ত। আর এর আয়তন আনুমানিক আড়াই হাজার কিলোমিটার, যা প্রজ্ঞান রোভারের খোঁজ চালানো এলাকাটি থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা সেখানে ম্যাগনেশিয়াম শনাক্ত করেছেন, যা চাঁদের গভীর থেকে এসেছে বলে দাবি তাদের। আর এটি সম্ভবত প্রাকৃতিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি। ২০২৫ বা ২০২৬ সালে চাঁদে আরেকটি মিশনের পরিকল্পনা করছে ভারত, যেখানে তারা চাঁদের মাটির বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

ঝাঁকড়া চুলের হৃদয়বিদারক গল্প শোনালেন স্পেনের ডিফেন্ডার

এমপির ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

মেসির অবসর ও বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে এবার মুখ খুললেন ডি মারিয়া

‘জালালাবাদ গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন জবির কাওছার

নতুন কোচের নাম ঘোষণা করল বেলজিয়াম

১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা ফের দেওয়ার সুযোগ, অংশ নিতে পারবেন যারা

ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

ইরানের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা

বিশ্বকাপের যে ব্যতিক্রম তালিকায় সবার উপরে এমবাপ্পে

১০

রাশিয়া-চীনকে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

১১

মেসির বিদায় হবে আর্জেন্টিনায়, পরিকল্পনায় ‘বিশেষ’ ম্যাচ

১২

শীর্ষ মাদক কারবারি সীমা গ্রেপ্তার, পলাতক স্বামী ‘প্লাস্টিক ফারুক’

১৩

স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পরই বড় দুঃসংবাদ পেলেন বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ী নায়ক

১৪

নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

১৫

আন্তঃদেশীয় হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ানের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ

১৬

চীনের উদ্যোগে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথ খুঁজছে পাকিস্তান

১৭

মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, তরুণ নিহত

১৮

বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

১৯

ভোলায় থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে বাস মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

২০
X