

অ্যালোভেরা হলো এক ধরনের সাকুলেন্ট গাছ। এটি ঝোপঝাড়ে জন্মায় এবং এর পাতাগুলো মোটা ও খাঁজযুক্ত। পাতার ভেতরের স্বচ্ছ জেল সাধারণত পোড়া বা জ্বালা-পোড়ার ত্বক শান্ত করতে ব্যবহার করা হয়। অনেকেই ব্রণ কমাতেও এটি ব্যবহার করে।
অ্যালোভেরার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (ব্যাকটেরিয়ারোধী) গুণই মূলত ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। কিছু মানুষ মনে করেন অ্যালোভেরা খেলে (ওরালি) ত্বকের ভেতর থেকে আর্দ্রতা ও সুস্থতা বাড়ে, তবে এ বিষয়ে খুব বেশি প্রমাণ নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালোভেরা যদি সাধারণ অ্যান্টি-অ্যাকনে ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়, তবে ভালো ফল পাওয়া যায়। আপনার ব্রণ যদি হালকা বা মাঝারি মাত্রার হয় এবং আপনি ত্বককে শান্ত করার কোনো নরম উপায় খুঁজছেন, তাহলে নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করতে পারেন।
অ্যালোভেরা একাই ব্যবহার করেও আপনি ফল পেতে পারেন। এটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে ভরপুর। শত শত বছর ধরে ক্ষত পরিষ্কার, ব্যথা কমানো এবং পোড়া ত্বক সারাতে ব্যবহার হচ্ছে। খুব কম মানুষই এতে অ্যালার্জি পায়, তাই এটি ব্যবহার করা বেশ নিরাপদ।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা কিনে ক্লেনজার হিসেবে মুখে লাগান। এতে ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমবে। ব্রণের জায়গায় আলাদা করে লাগাতে পারেন। সারা রাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেললে লালচেভাব ও জ্বালা কমে।
অ্যালোভেরা ব্যাকটেরিয়ারোধী, আর মধু ও দারুচিনিও একইভাবে কাজ করে। এই তিনটি মিলে খুব ভালো একটি ঘরোয়া অ্যান্টি-অ্যাকনে মাস্ক তৈরি হয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
২ টেবিলচামচ মধু
১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা
১/৪ চা-চামচ গুঁড়া দারুচিনি
সব একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ৫/১০ মিনিট রেখে দিন, তারপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা ও লেবুর রস ত্বককে সতেজ করে, রোমকূপ পরিষ্কার করে ও ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমায়। লেবুর রসের ফল-অ্যাসিড ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
২ টেবিলচামচ অ্যালোভেরা
১/৪ চা-চামচ লেবুর রস
মিশিয়ে মুখে লাগান। ৫/১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত লেবুর রস ত্বকে জ্বালা করতে পারে, তাই অনুপাত ৮:১ বজায় রাখুন।
অ্যালোভেরা নতুন ত্বক কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই মুখে ব্যবহার করার জন্য অ্যালোভেরা স্প্রে খুবই ভালো। এটি ত্বককে আর্দ্র করে কিন্তু তেলতেলে করে না।
কীভাবে বানাবেন
২ আউন্সের স্প্রে বোতল
১ ১/৪ আউন্স বিশুদ্ধ পানি
১/২ আউন্স অ্যালোভেরা
পছন্দের ১ থেকে ২ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
মিশিয়ে মুখে স্প্রে করুন। চোখে লাগতে দেবেন না। ব্যবহার করার আগে ভালো করে ঝাঁকান।
যারা ব্রণের জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি চমৎকার। স্ক্রাব ত্বকের মৃত কোষ সরায়, যা রোমকূপ বন্ধ করে ফেলে। অ্যালোভেরা ত্বকে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। নারিকেল তেল নিজেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং ত্বক মোলায়েম করে।
কীভাবে বানাবেন
১/২ কাপ নারিকেল তেল
১/২ কাপ চিনি (কাঁচা বা সাদা)
১/৪ কাপ অ্যালোভেরা
সব মিশিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। ব্যবহার করতে মুখে হালকা করে স্ক্রাব করুন এবং ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
টি ট্রি অয়েল ব্যাকটেরিয়া রোধী, তাই অ্যালোভেরার সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো কাজ করে। তবে এটি খুবই শক্তিশালী, তাই মুখে অনেকক্ষণ রাখা যাবে না।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
অ্যালোভেরা ও পানি মিশিয়ে তাতে ২–৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল দিন। মুখে লাগিয়ে ১ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা ক্রিম
অনেক ব্রণের ক্রিমেই অ্যালোভেরা থাকে। যদি আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে অ্যালোভেরা না থাকে, তাহলে বাজারে পাওয়া অ্যালোভেরা-যুক্ত পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।
- অনেকেই অ্যালোভেরা চা বা জুস পান করতে বলেন, কিন্তু ব্রণ কমাতে এর প্রমাণ নেই।
- অতিরিক্ত অ্যালোভেরা খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে এবং কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- ওষুধের সঙ্গে অ্যালোভেরা খেলে কিছু ক্ষেত্রে শরীরে প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তাই ডাক্তারকে জানানো ভালো।
- মুখে নতুন কিছু লাগানোর আগে সবসময় হাতে বা কব্জির কাছে প্যাচ টেস্ট করুন।
- যদি কোনো রকম জ্বালা বা লালচেভাব দেখা যায়, তবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করবেন না।
বাড়িতে বসেও অ্যালোভেরা দিয়ে ব্রণ কমানোর অনেক উপায় আছে। যদি আপনার ব্রণ হালকা বা মাঝারি মাত্রার হয়, তবে অ্যালোভেরা বেশ ভালো কাজ করতে পারে। ঝুঁকি কম এবং সফলতার সম্ভাবনা বেশি—তাই স্কিনকেয়ার রুটিনে অ্যালোভেরা যুক্ত করা বেশ উপকারী হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
মন্তব্য করুন