রাফসান জানি
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৩:১২ এএম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

গাড়ি দেখলেই আরোয়া বলছে ‘ধাক্কা দেবে’

গাড়ির ধাক্কায় আহত মা আইসিইউতে
ছোট্ট শিশু এনায়া রেজা আরোয়া। ছবি : সংগৃহীত
ছোট্ট শিশু এনায়া রেজা আরোয়া। ছবি : সংগৃহীত

বাবা-মায়ের কোলে চড়ে রিকশায় ঘুরছিল তিন বছরের এনায়া রেজা আরোয়া। এ সময় সামনে থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় তাদের রিকশা। গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত তার মা আফরোজা আহমেদকে নেওয়া হয়েছে আইসিইউতে। আর বাবা ইমরান রেজাসহ সড়কে আছড়ে পড়ে আরোয়াও। রিকশাচালক হাবিবুর রহমান মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসা নিয়েছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এ দৃশ্য ভুলতে পারছে না তিন বছর বয়সী আরোয়া। দুর্বিষহ স্মৃতি তাড়া করছে তাকে। গাড়ি দেখলেই বলছে, ‘ধাক্কা দেবে’। কোনোভাবেই গাড়িতে উঠতে চাচ্ছে না সে। জানা গেছে, আফরোজা আহমেদের মেরুদণ্ডের হাড়, বাঁ পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙে গেছে ও কপাল ফেটে গেছে। ইমরান রেজার দুই হাতের চামড়া ছিলে গেছে। রিকশাচালক হাবিবুর রহমানের মাথা ফেটে যায়, ভেঙে যায় ডান হাত।

আরোয়ার দাদা রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমার ছেলের স্ত্রী, ছেলে কারও অবস্থাই ভালো নেই। আরোয়ার মা (আফরোজা) আইসিইউতে। ছেলে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে। ক্রাচে ভর করে হাঁটছে। আমার নাতি (আরোয়া) ট্রমার মধ্যে আছে। বাইরে নিয়ে গেলে গাড়ি দেখলেই আঁতকে উঠছে। বলছে ধাক্কা দেবে। ভয়ে গাড়িতে উঠতে চায় না।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহত ইমরান ও আফরোজার বাসা মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে। ইঞ্জিনিয়ার ইমরান মিরপুরে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন আর তার স্ত্রী আফরোজা ওয়ান ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল অফিসার। গত রোববার আরোয়াকে তার মা-বাবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিকশাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৫ বছরের কিশোর শাহরিয়ার হাসান। পাশের সিটে ছিলেন সালমান হায়দার নামে এক যুবক। স্থানীয়রা দুজনকে ধরে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় আহত ইমরানের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহরিয়ার ও সালমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পর শাহরিয়ারকে গাজীপুরের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ও সালমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাহফুজুল হক বলেন, চালকের আসনে থাকা কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে, আর সালমানকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। তিনি জানান, কিশোরের বাসা মোহাম্মদপুরের শের শাহ সুরি সড়কে। আর সালমানের বাসা ইকবাল রোডে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি সালমানের এক বন্ধুর। ওই বন্ধু তার গাড়ি সালমানের বাসায় রাখতেন। সালমান মাঝে মাঝে নিজেই গাড়িটি চালাতেন। ঘটনার দিন গাড়িটি চালাচ্ছিল ওই কিশোর। তাদের কারোরই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে যা করবেন

হঠাৎ অসুস্থ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘হিজাব পরা আপুরাও মিথ্যা ছড়াচ্ছেন’—মেয়েদের ট্রল নিয়ে বিস্ফোরক বুবলী

লবণ বেশি খেলে কী ঘটে শরীরে জেনে নিন

যাদের জন্য পেঁপে খাওয়া বিপজ্জনক

‘ওর মা নেই, ওকে মারবেন না প্লিজ’

দুই দশক পর চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে তির্যক মন্তব্য ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারের

বেকার ভাতা নয়, আমরা কাজ দেব : জামায়াত আমির

১০

নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ বিসিবির 

১১

ভারতের সঙ্গে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ করছে ইইউ

১২

পাকিস্তানি তরুণীর রূপে মুগ্ধ ভারতীয় অফিসার, ভিডিও ভাইরাল

১৩

প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে

১৪

কান্নার ভান করতে গিয়ে হেসে ফেললেন নববধূ

১৫

ভিসামুক্ত সুবিধা চালু করল ব্রাজিল

১৬

ক্লিনিকাল ট্রায়ালে প্রোবায়োটিক ‘কারকুমা বায়োকমফোর্ট’র ইতিবাচক সাড়া

১৭

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত সিরীয় উদ্বাস্তুদের জীবন

১৮

সৌদি আরবে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম, প্রবাসীদের জন্য সুখবর

১৯

যে কোনো হামলাকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখবে ইরান

২০
X