মাহমুদুল হাসান
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৪, ০২:৩৩ এএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০৮:৫০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রোগী বাড়লেও সেবা বাড়েনি

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস আজ
রোগী বাড়লেও সেবা বাড়েনি

রাজধানীর শনির আখড়ার বাসিন্দা পিয়াস-মলি দম্পতি। দুজনেই ছিলেন থ্যালাসেমিয়ার অজ্ঞাত বাহক। তাদের তিন বছরের একমাত্র ছেলে রাহিদ এ রোগে আক্রান্ত। আড়াই বছর ধরে প্রতি মাসে এক ব্যাগ করে রক্ত দিতে হয় তাকে। পিয়াস জানান, আড়াই বছর ধরে একমাত্র সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা করে তারা হাঁপিয়ে উঠেছেন। অনেক ওষুধ কিনতে হয়। প্রতি মাসে একবার মালিবাগ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে এসে রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হয়।

পিয়াস বলেন, আমি স্বল্প আয়ের মানুষ। এর মধ্যেও অন্তত পাঁচ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। তবু কষ্টটা থাকত না, যদি ছেলে সুস্থ হয়ে উঠত। মালিবাগ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পঞ্চম তলায় রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে কথা হয় তাদের সঙ্গে। সেখানে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, রাহিদের মতো অন্তত ৮৪ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী রক্ত পরিসঞ্চালন করতে এসেছেন। জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা নেন।

সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো আজ ৮ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘প্রতিটি প্রাণের ক্ষমতায়ন এবং অগ্রগতিকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে সবার জন্য ন্যায়সংগত ও সহজলভ্য থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা।’ এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসকারিভাবে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ এ রোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১৪ জনে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছেন, আর ৭০ হাজারের বেশি শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৬ থেকে ৭ হাজার শিশু বিভিন্ন ধরনের থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। শঙ্কার বিষয়, এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে, সেই হারে বাড়েনি সেবার মান। চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত গ্রামের রোগীরা। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় রয়েছেন মাত্র দেড়শর কম রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ।

থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পরামর্শক ও হেমাটোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর মোর্শেদ বলেন, সচেতনতার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষ সচেতন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। বিয়ের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়কে এ-সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিয়ের আগে কাজির সামনে বর-কনের থ্যালাসেমিয়ার বাহক নির্ধারক পরীক্ষা করাতে হবে। তাহলে রোগটি ছড়িয়ে পড়া কমানো যাবে। সেইসঙ্গে মসজিদের ইমাম দিয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়াতে হবে। এতে একটি প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠলে রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্কিন সেনা হত্যায় জড়িত আইআরজিসির সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ, বেতন ৩১ হাজার

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, বেতন ৩০ হাজার

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি দিচ্ছে ব্র্যাক, পাবেন বিভিন্ন সুবিধা

আওয়ামী লীগের টাকার কাছে বিক্রি হব না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সড়কে প্রাণ গেল যুবদল নেতার

ভিসা আবেদনকারীদের জন্য কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিল সৌদি আরব

মেঘনা গ্রুপে কাজের সুযোগ, ২০ বছর হলেই আবেদন

১০

ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা মেসির, কী বললেন মহাতারকা

১১

বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় লা ফুয়েন্তের নতুন স্পেন

১২

তেঁতুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

১৩

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক গেলেন সেনাপ্রধান

১৪

সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ট্রাম্পের পাশে বসে ফাইনাল দেখবেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

১৫

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে কিয়েভ

১৬

আবু সাঈদ-ওসমান হাদীর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে বিএনপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১৭

জলবায়ুর জন্য বড় হুমকি ফুটবল বিশ্বকাপ: গবেষণা

১৮

ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হলেও আছে ভ্যাপসা গরমের আভাস

১৯

স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে চেক সরকার

২০
X