

ইস্প্রিহা
’৭১ পেরিয়ে ২৬ এসেছে কিন্তু সূর্য তো ওঠেনি ওরে তোরা কোথায়, দেখ তো কী হচ্ছে এতদিন তো লাগার কথা নয় আমি কি শেষে অন্ধকারেই মরব?
আমি কিন্তু শপথ করেছিলাম আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি আমার সামনে দাঁড়িয়ে একই সুরে প্রতিদিন সকালে এক সঙ্গে গানের সুরে আমরা সবাই গেয়েছি মা তোর মুখের বাণী আমার প্রাণে লাগে মধুর মতো।
কিন্তু আমার সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো বেলা গড়ে গেলো অথচ দেশ তো স্বাধীন হলো নারে! ওরে তোরা কোথায় গেলি চলে চুপটি করে রইলি বসে অট্টালিকার কোণে দেশ ছেড়েছি বহুবছর খাবারের সন্ধানে আশা ছিলো ফিরবো দেশে বীরের বেশে স্বপ্নীল সেই বাংলাদেশে।
যাবো যাবো করে শেষে বিপদ এলো নতুন বেশে ভালো কেও আর বাসেনারে দেশটি এখন সর্বনাশে। দুর্নীতি আর অনীতিতে ভরে গেছে সারা দেশে সকাল বেলা সূর্য উঠে বিকেলে যায় গড়ে কেউ বোঝে না, মনের আলো পড়ে আছে নীরব, নিভে।
তবু কোথাও এক কোণে অভিমানী আলো কাঁপে রাত গভীর হলে মনে হয় কারা যেন ভেতর থেকে ডাকে। সব শেষ হয়ে যায়নি এখনো সব দরজা বন্ধ হয়নি ভাঙা স্বপ্নের ফাঁক দিয়ে একফালি আকাশ রয়ে গেছে জ্বলি।
আমরা কি ভুলে গেছি জাতীয় সঙ্গীতের শপথ রক্তে লেখা প্রতিজ্ঞার কথা? স্বাধীনতা কি শুধু লাল সবুজের পতাকা না কি আমাদের মুখের হাসি?
আমরা যারা বিশ্বাস করি মানুষই শক্তি ভোটই হবে সত্যের পথ তারা আজ কোথায় লুকিয়ে রেখেছে তাদের সেই বিবেক আর মুখের বাণী?
ওরে তোরা, আর কত চুপ থাকবি? এই মাটি এখনো ডাকে তোদের নদী ভাঙে, তবু বয়ে যায় ফুলের গন্ধে ভোর জাগে লাল সবুজের পতাকা উড়ে এখনো আকাশে তারা জ্বলে।
স্বাধীনতা কাগজে লেখা অক্ষর নয় স্বাধীনতা মানে ভাতের নিশ্চয়তা শ্রমিকের ঘামে ন্যায্য মূল্য কৃষকের মুখে শান্তি শিশুর চোখে নির্ভয় স্বপ্ন।
আমি অন্ধকারে মরতে চাই নারে শেষ আলোটা দেখতে চাই যে আলোয় রক্তের দাগ আর দেখা যাবে না মানুষের হৃদয়ে শেফালির হাসি ফুটে উঠবে।
যদি সবাই আমরা নীরব থাকি তবে কীভাবে শুরু হবে? যদি কেউ না দাঁড়ায় কারো পাশে ফিরে আসবে কি স্বাধীনতা বাংলাদেশে?
আমার সোনার বাংলা সে তো শুধু সুর নয় সে আমার লজ্জা, আমার ভালোবাসা আমার প্রতিজ্ঞা, আমার দায় আমার অসমাপ্ত কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর।
কুয়াশার মাঝেই সূর্য উঠবেই একদিন যদি আমরা সকলে মিলে হৃদয় খুলে বিবেকের সামনে দাঁড়িয়ে আলোকে ডাকি নামে। এসো হে আকাঙ্ক্ষা, এসো হৃদয়ে।
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন