

তীব্র দাবদাহ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একসময় ‘হিট অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছিল। যা বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মাঠে নামিয়েছে ‘সিটি ইন্সপেক্টর’। যাদের কাজ হবে নাগরিকদের মধ্যে সুঅভ্যাস গড়ে তোলা।
বুধবার (১০ জুন) নগর ভবনের মিলনায়তনে ‘নিজে বদলাই, ঢাকা বদলাবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক অনুষ্ঠানে এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি জানায়, নাগরিকদের মধ্যে নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং যত্রতত্র ময়লা না ফেলার মতো সুঅভ্যাস তৈরিতে সিটি ইন্সপেক্টরা কাজ করবেন।
ডিএসসিসির উদ্যোগে ও ‘আছি বাংলাদেশের’ অর্থায়নে বুধবার থেকেই রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ২০ জন সিটি ইন্সপেক্টর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো মতিঝিল এলাকাকে ১০টি জোনে ভাগ করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিটি ইন্সপেক্টররা মূলত বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি গিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করবেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলাসহ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা তদারকি ও জরিপ করা হবে। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও দায়িত্বহীন নাগরিক চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে তা প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের একক দায়িত্ব নয়, এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। শহরের প্রতিটি বাড়ি, দোকান ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকলে পুরো নগরই বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আজ ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যে কর্মসূচির সূচনা হলো, তা পুরো নগরের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিটি ইন্সপেক্টরদের মূল কাজই হবে নাগরিকদের সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরাসরি সহযোগিতা করা।
সহযোগী সংস্থা ‘আছি বাংলাদেশের’ উদ্যোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রোগব্যাধি প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নগরবাসীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নাগরিকরা সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ধুলাবালি, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।
মতিঝিল ৯ নম্বর ওয়ার্ড একটি আদর্শ ওয়ার্ডে পরিণত হলে পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির সবকটি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আছি বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সিটি ইন্সপেক্টররা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে ২০২৩ সালের মে মাসে বুশরা আফরিনকে চিফ হিট অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বুশরা ডিএনসিসির তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে। বিষয়টি নিয়ে সেই সময় বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়।
ডিএনসিসি সেসময় জানায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঢাকা উত্তরকে নিরাপদ করার জন্য নেতৃত্বে দেবেন বুশরা আফরিন। তাপমাত্রা কমাতে তিনি শহরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। ঢাকা উত্তরের জনগণের মধ্যে তাপ সচেতনতা বাড়ানো, সুরক্ষা প্রচেষ্টা ত্বরান্বিতকরণসহ নতুন নতুন কাজ করবেন।