বছর তিনেক ধরে আফছানা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সৈকত সরকারের। শুরুতে তাদের ভালো সময় কাটলেও দুই পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তবে আফছানা চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। দিশাহারা ছিলেন সৈকত। শেষ পর্যন্ত নিজ হাতে প্রেমিকাকে খুন করে ফেলেন তিনি!
শনিবার (২২ জুলাই) দুপুরে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের সিংটোলায় প্রেমিকের বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আফছানা শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। তার প্রেমিক উদয়ন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। পুলিশ তাকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সূত্রাপুর থানার ওসি মো. মইনুল ইসলাম বলেন, আফছানা প্রায় শিংটোলায় সৈকতের ভাড়া বাসায় যেতেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাসায় যান। তখন সৈকতের নার্স মা কর্মস্থলে ছিলেন। বিয়ে নিয়ে দুজনের ঝগড়ার একপর্যায়ে সৈকত আফছানার গলাটিপে ধরেন। ওই সময় তিনি মারা যান।
ওই থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) অহিদুল হক মামুন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈকত খুনের কথা স্বীকার করেছেন। বলেছেন, বিয়ের জন্য আফছানা তাকে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু পরিবার এই বিয়ে মেনে নিচ্ছিল না। আফছানার পরিবারও মেনে নিচ্ছিল না সম্পর্ক। এরপরও তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে ক্ষোভ থেকে তিনি আফছানার গলাটিপে ধরেছিলেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সৈকতের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। ওই তরুণ-তরুণীদের দুজন দুই ধর্মের। এতে পরিবার সম্পর্কটা মেনে নিচ্ছিল না। তা ছাড়া তাদের বয়সও তুলনামূলক কম।
পুলিশ জানায়, আফছানার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুরান ঢাকার কলতাবাজারে থাকত।
মন্তব্য করুন