জামান মৃধা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩, ০৪:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মরছে অনুদানের গবাদিপশু, ভাঙছে চরাঞ্চলের সোনালি স্বপ্ন!

অসুস্থ হয়ে পড়া ছাগলগুলোক পশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন খামারিরা। ছবি : কালবেলা
অসুস্থ হয়ে পড়া ছাগলগুলোক পশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন খামারিরা। ছবি : কালবেলা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা গবাদিপশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টিরও অধিক পশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও কঙ্কালসার এসব পশু বিতরণের এক থেকে দুই মাস যেতে না যেতেই প্রাণ হারাচ্ছে। এতে উপকারভোগীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন : দিনাজপুরে গরুর লাম্পি স্কিন রোগে ক্ষতির মুখে খামারিরা

সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ বিভাগ উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাস করা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২০টি পরিবারকে একটি করে গরু, ৪২টি পরিবারকে পশু পালনের ঘরসহ তিনটি করে ভেড়া, ৪২টি পরিবারকে দুটি করে ছাগল ও ৬২টি পরিবারকে মুরগি পালনের ঘর নির্মাণ করে দেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার ৪৫০ জন উপকারভোগী এ অনুদান দেওয়া হবে। তবে বিতরণের পর থেকে উপকারভোগীদের কেউ কেউ গবাদিপশু নিজ বাড়িতে নিতে না নিতেই মরতে শুরু করেছে বলে জানান।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি উপকারভোগী পরিবারকে সর্বনিম্ন ১২০ কেজি ওজনের গরু দেওয়ার কথা থাকলেও ৫০ থেকে ৬০ কেজি ওজনের ছোট ও রোগাক্রান্ত গরু দেওয়া হয়। এ ছাড়াও প্রতিটি ভেড়া সাত কেজির জায়গায় দুই থেকে চার কেজি ও ছাগলের ওজন আট কেজির জায়গায় দুই থেকে তিন কেজি ছিল বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিতরণ করা পশুগুলো প্রকল্পের নির্ধারিত সাইজের চেয়ে অনেক ছোট। এ ছাড়াও একাধিক সচ্ছল ব্যক্তিদেরও অনুদানের এসব পশু দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উপকারভোগীরা জানান, অত্যন্ত রুগ্ণ ও কঙ্কালসার ছিল প্রকল্পের দেওয়া গবাদিপশু। সরকারি বরাদ্দের অর্ধেক দামেও কেনা হয়নি এসব গবাদিপশু। উপকারভোগীদের নিজ বাড়িতে এসব গবাদি পশু নেওয়ার পর অনেকগুলোই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আবার অনেকের মারাও গেছে।

উপকারভোগী ও চর প্রকল্পের মাঠকর্মী সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প এলাকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, ঝুনাগাছ চাপানি, খালিশা চাপানি ইউনিয়ন ও ছিটমহল এলাকায় অন্তত ৪০টি অনুদানের ছাগল-ভেড়া মারা গেছে। উল্লেখ্য এসব গবাদিপশু বিতরণ করা হয়েছিল এপ্রিল ও মে মাসের শেষের দিকে। বিতরণের এক মাসের মধ্যে এসব প্রাণী মারা গেলে নতুন প্রাণী সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মাত্র চারজন উপকারভোগীকে নতুন প্রাণী সরবরাহ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চর- প্রকল্পের মাঠ কর্মীরা বলেন, এসব গবাদি পশুর মৃত্যুর সব তালিকা তারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ঠাটারিপাড়া গ্রামের উপকারভোগী স্বপ্না বেগম বলেন, আমাকে যে দুটা ছাগল দেওয়া হয়েছিল তার ওজন দুই কেজির বেশি হবে না। অসুস্থ ছাগল দুটা বাড়িতে নিয়ে আসার ১০ দিনের মধ্যে মারা গেছে। অফিসের লোকজনকে জানালেও আমাকে আর অন্য কোনো ছাগল দেয়নি।

একই এলাকার সোনালি বেগমের দুটি ছাগল, ছকিনা ও আমিনুর রহমানের একটি করে ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। উপকারভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, যে ছাগল ও ভেড়া দেওয়া হয়েছে তার ওজন দুই থেকে তিন কেজির বেশি হবে না। পরে জানতে পারলাম আমাদের দেওয়ার জন্য সর্বনিম্ন আট কেজি ওজনের গবাদি পশু বরাদ্দ রয়েছে। আমাদের সহজ সরল পেয়ে ঠকিয়েছে। আমরাও মৃত গবাদি পশুর বদলি পাইনি।

আরও পড়ুন : লাম্পি স্কিন ডিজিজ ঝুঁকিতে গবাদি পশু

একই এলাকার রঞ্জিত, শফিকুল, রশিদাসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত আরও ১০ জন উপকারভোগী বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে লালন-পালনবিষয়ক কর্মশালায় তাদের বলা হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের উন্নত জাতের গরু দেওয়া হবে। প্রতিটি গরু সর্বনিম্ন ১২০ কেজি ওজনের হবে। কিন্তু তাদের দেওয়া হয়েছে কম ওজনের রুগ্ণ ও কঙ্কালসার দেশীয় জাতের গরু। যার বাজারমূল্য হবে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি হবে না। ছোট আকারের এসব গরুর বয়সও অনেক বেশি। এসব গরু লালন পালন করে তাদের লাভ হবে না।

তারা জানান, দামের সঙ্গে বিতরণকৃত গবাদি পশুর সামঞ্জস্য না পাওয়ায় অধিকাংশ উপকারভোগী সেগুলো নিতেও চাননি। এ নিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে অনেক দেন-দরবার করে এসব গবাদি পশু নিতে বাধ্য বাধ্য করে।

উপকারভোগীরা বলেন, উপজেলা পানিসম্পদ কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের শর্তাবলি লঙ্ঘন করে কম ওজনের এসব গবাদিপশু উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে, উপজেলা পাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মদন কুমার বলেন, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী গবাদি পশুগুলোর ওজন কম থাকায় বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছিলেন। পরে উপকারভোগীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কম ওজনের গরু বিতরণ করা হয়েছে। ছাগল ও ভেড়া বিতরণের সময় প্রকল্পের পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল উপস্থিত ছিলেন। ছোট হলে উপকারভোগীরা তখন অভিযোগ করেনি কেনো। এ ছাড়া জীবন্ত পশুর ওজন কম না বেশি ও মৃত্যু হতে পারে। এটা স্বাভাবিক বিষয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঝুম বৃষ্টিতে ভিজলো রাজধানী

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কথাকাটাকাটি

মোদি-শেখ হাসিনা বৈঠক আজ

চুয়াডাঙ্গায় দেখা মিলেছে ভয়ংকর রা‌সেল ভাইপার

ফরিপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত একজনের মৃত্যু 

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

টিভিতে আজকের খেলাসূচি

২২ জুন : জেনে নিন নামাজের সময়সূচি

পরকীয়ার জেরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন, স্ত্রী ও ভাগ্নে আটক

শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে খালেদা জিয়া

১০

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ / নেদারল্যান্ডসের কাছে আটকে গেল ফ্রান্স

১১

রাসেল ভাইপার মারলেই ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার, কথা রাখলেন না আ.লীগ নেতা

১২

শেরপুর কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন

১৩

ইউরোতে অস্ট্রিয়া ও ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জয়

১৪

সিলেটে চিনি ছিনতাই : পৌর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

১৫

বিয়েবাড়িতে সাউন্ডবক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কনেসহ আহত ৯

১৬

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির দ্বারপ্রান্তে প্রোটিয়ারা

১৭

টাঙ্গাইলে প্রাইভেটকার-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

১৮

সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু, পুরোনো ঘটনা সাম্প্রতিক বলে প্রচার

১৯

কমতে শুরু করেছে মৌলভীবাজারের নদ-নদীর পানি

২০
X