কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৫, ১১:১৯ এএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

পাথর মেরে ব্যবসায়ীকে হত্যা: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে পাথর মেরে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যা। ছবি : সংগৃহীত
মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে পাথর মেরে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যা। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও এক আসামি টিটন গাজীকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগকে টেনেহিঁচড়ে নিজ দোকান থেকে বের করে হত্যা করা হয় শত শত জনতার সামনে। তারা তাকে পিটিয়ে, কুপিয়ে এবং মাথা থেঁতলে নিশ্চিত করে তার মৃত্যু। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

সোহাগকে হত্যার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকা রাস্তায় অর্ধবিবস্ত্র হয়ে শুয়ে পড়ে আছে সোহাগ। তখন তার শুধু নিঃশ্বাসটুকু চলছিল। এ সময় রাস্তা থেকে একটি বড় কংক্রিটের অংশ হাতে তুলে নেয় হালকা আকাশি রঙের শার্ট এবং জিন্সের প্যান্ট পরিহিত রিয়াদ। মাথার ওপরে কংক্রিটের অংশ তুলে সজোরে কোমর আর বুকের মাঝখানে আঘাত করে সে। এ সময় সোহাগ দুই হাত আর দুই পা ছড়িয়ে দিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। এরপর একদম বুক বরাবর আবার আঘাত করে। তখন গোল গলার টি-শার্ট আর গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরিহিত সজীব একপাশ থেকে হেঁটে এসে আরেকটা বড় কংক্রিটের অংশ মাথায় তুলে একদম মুখের মধ্যে আঘাত করে। এরপর আরেকটি ইট নিয়ে এসে মাথায় আঘাত করে ছোট মনির, পাশ থেকে আবার মাথায় আঘাত করে লম্বা মনির, আর তাদের ইট এগিয়ে দেয় নান্নু। এভাবে বারবার মারতে মারতে মাথা থেঁতলে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় সোহাগের। আর এই পুরো হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন মহিন এবং অপু দাস। মাথা থেঁতলে মৃত্যু নিশ্চিত করা ছোট মনির মিটফোর্ড হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী, নান্নু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এবং বড় মনির, রিয়াদ ও সজীব যুবদল নেতা মহিনের কর্মী।

এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) ও তারেক রহমান রবিনকে (২২) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় আসামি তারেক রহমান রবিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তা ছাড়া র‌্যাব এজাহারভুক্ত আসামি মনির ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে হাসানকে ৫ দিনের জন্য এবং রবিনকে দুদিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার টসে হাত মেলালেন না ভারত-বাংলাদেশের অধিনায়ক

নির্বাচিত সরকার এলেও সব সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না : মতিউর রহমান

ভালো নির্বাচন না হলে দেশ ও জনগণকে খেসারত দিতে হবে : দুদু

পত্রিকা অফিসে আগুন দেওয়া ব্যক্তিরা জুলাইয়ের চেতনা ধ্বংসে লিপ্ত : নূরুল কবির

এলাকাবাসীর ধাওয়া খেলেন রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিক

নতুন প্রাকৃতিক চিনি ‘ট্যাগাটোজ’ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আশাবাদ

ঢাকায় ঐতিহাসিক সাফা আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঝরল জামায়াত কর্মীর প্রাণ

গুম-খুনের বিভীষিকাময় সময়ের অবসান হয়েছে : তারেক রহমান 

টস জিতে ভারতের বিপক্ষে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

১০

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থীর

১১

জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ নায়ক

১২

ওজন মাপা বন্ধ করে প্রাধান্য দিন ফিটনেসকে

১৩

ওসমানী হাসপাতালে হামলা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

১৪

শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব মামুনুল হকের

১৫

জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

১৬

ভারতকে হারিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

১৭

২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণ তুলল সৌদি আরব

১৮

কর্নেল অলির বিরুদ্ধে মামলা, জামায়াতের বিবৃতি

১৯

পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তনের কথা জানাল ইসি

২০
X