রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাতছড়িতে টিকে আছে একটি মাত্র ‘আসামি বানর’

সাতছড়ি বনে থাকা একমাত্র ‘আসামি বানর’। ছবি : কালবেলা
সাতছড়ি বনে থাকা একমাত্র ‘আসামি বানর’। ছবি : কালবেলা

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কয়েক বছর ধরে টিকে আছে একটি মাত্র বিরল প্রজাতির একটি ‘আসামি বানর’। এই প্রজাতিটিকে ভারতের আসামে বেশি দেখা মেলে, তাই এই নামকরণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে সাতছড়ি উদ্যানে বানরটিকে নিঃসঙ্গভাবে উদ্যানের স্টুডেন্ট ডরমেটরি ও রেস্টুরেন্টে আশপাশে ঘুরতে দেখা যায়। ব্যতিক্রম প্রজাতির হওয়ায় দেশীয় বানর কিংবা অন্য বানরজাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে তেমন ঘুরতে পারে না। তাই প্রায়ই একে দলছুট থাকতে দেখা যায়। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টরা জানান, বানরটির জোড়া মেলানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভারত তথা বিদেশ থেকে কিছু প্রজাতির এই আসামি বানর এনে এই বনে অবমুক্ত করলে এই বানরটির জন্য প্রজননে সহায়ক হবে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায়ই বানরটিকে বিষণ্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। অনেকে ছবি তুলে বিরক্ত করে বানরটিকে। আবার কেউ কেউ বানরটি পাচারের আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, আসামি প্রজাতির বানটি নিঃসঙ্গভাবে চলাফেরা করে। সম্ভাবনা রয়েছে এটি দেশি প্রজাতির সঙ্গে প্রজনন করে শংকর জাতের উদ্ভাবন করতে পারে। তবে এটির জোড়া মেলানো প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, বিরল ও বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী ‘আসামি বানর’। আসাম বান্দর বা বোঢ়া বানর নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম আসামিজ/আসাম/হিমালয়ান ম্যাকাক। সারকোপিথেসিডি গোত্রের প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘Macaca assamensis’। এরা বড় আকারের বানর, তবে অন্যান্য বানর প্রজাতির তুলনায় লেজ বেশ খাটো। নাকের আগা থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৫১ থেকে ৭৩ সেন্টিমিটার। লেজ ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার। পুরুষের ওজন ১০ থেকে ১৪ কেজি এবং স্ত্রীর ওজন ১০ থেকে ১২ কেজি। মাথা বড় ও বর্গাকার। মুখমণ্ডল চওড়া ও গাঢ় বাদামি থেকে লালচে। দেহের ওপরের লোমের রং বাদামি-ধূসর, নিচের লোম সাদাটে-ধূসর।

আসামি বানর’ মিশ্র চিরসবুজ পাহাড়ি বনের বাসিন্দা। দিবাচর, বৃক্ষবাসী ও ভূমিচারী প্রাণীগুলো বেশ লাজুক। সচরাচর পুরুষ, স্ত্রী, বাচ্চাসহ ৫ থেকে ১৫টির দলে বাস করে। দলে একাধিক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ থাকতে পারে। ফল, পাতা, ফুল, শস্যদানা, কীটপতঙ্গ, ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদি খায়। গভীর বনের বাসিন্দা হলেও নেপাল ও ভারতে খাবারের জন্য ফসলের খেতে হানা দেওয়ারও তথ্য রয়েছে। নিচু ও মোলায়েম সুরে ‘পিউ-পিউ’ স্বরে ডাকে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই দাবি আদায়ে বৈষম্যবিরোধীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় মশাল মিছিল

শাহবাগ অবরোধ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

মোস্তাফিজ ইস্যুতে আসিফ নজরুলের কড়া বার্তা

ঢাকার পাঁচ আসনে ১৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, ৩১ জনের বৈধ

টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ১১ কিশোর

বরিশালে আটকে গেল বিএনপি প্রার্থী সান্টুর মনোনয়ন

ছাত্রলীগের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

মাদুরোর ছবি প্রকাশ, জানা গেল সঠিক অবস্থান

নিরাপত্তা ও মুস্তাফিজ ইস্যুতে আইসিসিকে চিঠি দিতে যাচ্ছে বিসিবি

১০

কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন আ.লীগ নেতার মৃত্যু

১১

জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগে ভোটাধিকার ফিরেছে : মেজর হাফিজ

১২

প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা

১৩

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা যাবে কার হাতে?

১৪

মুস্তাফিজ–আইপিএল ইস্যুতে যা বলছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা

১৫

অভ্যুত্থান হয়েছিল দেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য : জুনায়েদ সাকি

১৬

এনসিপির ১ নেতাকে অব্যাহতি

১৭

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

১৮

তারেক রহমানকে সমবেদনা জানালেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা

১৯

চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিতি ৯১.৯৯ শতাংশ, এক অভিভাবকের মৃত্যু

২০
X