গত বছর গোমতী ও সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে স্মরণকালের আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকরা আধাপাকা ও পাকা আউশ ধান ঘরে তুলতে পারেননি। এতে তার অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে এ বছর আবাদ উপযোগী আবহাওয়া পাওয়ায় কৃষকরা তাদের কঠোর পরিশ্রম ও যত্নে ফলানো ফসল বাড়ি নিয়ে যেতে পারছেন।
বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে, বাড়ি বাড়ি পাকা আউশ ধান ঘরে তোলার এখন মোক্ষম সময় চলছে। ফসল ঘরে তুলতে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। যত্নে ফলানো স্বপ্ন গোলায় তুলতে পারার আনন্দে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, গত বছর তারা কষ্টার্জিত পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি। আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় পাকা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে গিয়েছিল। চোখের সামনে ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা ফসল তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তারা এখনো ভুলতে পারেননি। তবে এ বছর তারা পাকা আউশ ধান ঘরে তুলতে পেরে আনন্দিত। ফলন ভালো হওয়ায় গতবছরের বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও পোষাবে বলে মনে করছেন তারা।
ব্রাহ্মণপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, এবার আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ১০৪ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৪৬ হেক্টর। তবে এবার আউশ মৌসুমে সময়মতো সঠিক বালাইনাশক ব্যবহার, সার, পানি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন। ভালো ফলনে খুশি কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তীব্র রোদ উপেক্ষা করে সোনালি পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পাকা ধান ঘরে তোলার আনন্দে কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বইছে। বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে কেউ কেউ ধান কাটছেন। কেউ কেউ কাটা ধানের আঁটি বাঁধছেন। আবার কেউ কেউ এসব ধান কাঁধে ও মাথায় করে বাড়ি নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও দেখা গেছে বাড়ি নিয়ে আসা ধান গাছ থেকে ধান সংগ্রহ, ধান সেদ্ধ ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, গত বছর ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা পাকা আউশ ধান ঘরে তুলতে পারিনি। হঠাৎ করে ভয়ংকর বন্যা এসে সব ডুবিয়ে দিয়েছিল। তবে এবার আমরা পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছি। এবার ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। এতে আমরা বেশ খুশি।
জসিম উদ্দিন নামে স্থানীয় আরেক কৃষক বলেন, গত বছর আমরা বন্যার কারণে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এবারও মাঠে আধাপাকা ধান থাকা অবস্থায় কয়েকবার করে আওয়াজ উঠেছিল গোমতী নদীতে পানি বাড়ছে, বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে অবশেষে বন্যা হয়নি। এখন আমরা পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের ফলন আশানুরূপ হয়েছে।
কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, এ বছর ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এখন আমরা আউশ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। এখন আমাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। এই পরিশ্রমেও আনন্দ রয়েছে। এই আনন্দ ফসল ঘরে তোলার আনন্দ।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা কালবেলাকে বলেন, এখন কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং ফসল ঘরে তোলার আনন্দের সম্মিলিত চিত্র ফুটে উঠেছে মাঠে মাঠে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও বেশ খুশি।
তিনি বলেন, আউশ মৌসুমে আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে মাঠে গিয়ে ফসলের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের পরামর্শসহ সহযোগিতা করেছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের লাভবান করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন