সাইবার নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকি। এটি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে থেকেও ভয়ংকর ও নির্মম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরীর ভুবন মোহন পার্কে ডেঙ্গু প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংসদে সাইবার সিকিউরিটি আইন পাস হয়েছে। এটাতে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হতে পারেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর থাকল না। সরকারের লুটপাট, চুরি যাতে কোথাও প্রকাশ হতে না পারে তাই সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করা হয়েছে। এটা নিয়ে সবাই বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু তারা কারো কথাই শোনেনি। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস করে জরিমানা আরও বাড়িয়েছে।
রিজভী বলেন, পায়ের নিচে মাটি না থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাওয়াত না পেয়েও জি-২০, দিল্লি ঘুরে বেড়াচ্ছে। উনি ব্রিকসের সদস্য না সেখানে গেলেন। জি-২০ সদস্য না তাও সম্মেলনে গেলেন। দাওয়াত পাক বা না পাক ছবি তুলতে তিনি যাচ্ছেন। কারণ তার পায়ের নিচে মাটি নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে ডেঙ্গুজ্বরে কাঁপছে। ওষুধ নেই, চিকিৎসা নেই। আর সরকার ও তার মেয়ররা পিকনিক করে বেড়াচ্ছেন। দেশে ডেঙ্গু প্রকোপের জন্য দায়ী প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ররা। তাদের উদাসীনতায় প্রকোপ বেড়েছে। যে সরকারকে জবাবদিহি করতে হয় না। ভোটের প্রয়োজন হয় না। সেই সরকার জনগণের জীবনের মূল্য দিতে পারে না। তারা জীবনের মূল্য দিতে চায় না। তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
রিজভী আরও বলেন, আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে শেখ হাসিনা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যবহার করছে। আজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শেখ হাসিনা সরকারের সব কিছু প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। আজকে যে কোনো জেলাতে পুলিশ বাহিনী বড় বড় কর্মকর্তারা হয় ছাত্রলীগ না হয় গোপালগঞ্জে বাড়ি; কী করে সম্ভব। এতদিন মিথ্যা মামলা করেছে। এখন সাজা দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। রাত ৮টা ১০টা পর্যন্ত সাক্ষী নেই। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশেই মামলা দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন থামানো যায়নি। এটা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে কারণে আন্দোলন করছে বিএনপি। আমার জানি এই সরকারকে তারা ভোট দিতে চায় না। বিএনপিকে ভোট দিবে সেটাও আমার বলছি না। তবে তারা যাতে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে এই জন্যই আমার অন্দোলন করে যাচ্ছি।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটি সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত খালেক, এস এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, সদস্য সচিব শ্রী বিশ্বনাথ সরকার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন-অর-রশীদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন