বেসরকারি টিভি ‘চ্যানেল টোয়েন্টিফোর’-এর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে তার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
সাদ্দাম হোসেন শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মহেশপুর গ্রামের জামাল উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে। পরে হামলাকারীরা তার বাড়িঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আহত সাদ্দাম হোসেনকে রাতেই ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেনের পিতা জামাল উদ্দীন বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তার ছেলে ঝিনাইদহ শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে আসছিল। সাদ্দাম শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে পৌঁছালে এলাকার বখাটে বিপ্লব হোসেন ও তার চাচা ফিরোজ তার ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর তার বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা ।
সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন জানান, ২০২২ সালে তার একটি ফেসবুক পোস্টে বিরুপ মন্তব্য করেন গাড়াগঞ্জ এলাকার বিপ্লব হোসেন নামের এক বখাটে। এ নিয়ে তিনি ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি জিডি করেন। জিডির সূত্র ধরে চলতি বছরের জুলাই মাসে গোয়েন্দা পুলিশ বিপ্লব হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ধরে নিয়ে আসে। তখন সে নিজের ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা পায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বখাটে বিপ্লব। থানায় জিডি করা ও পুলিশ তাকে আটক করার কারণে অপমানিত বোধ করেন বিপ্লব। সেই রেশ ধরে বৃহস্পতিবার রাতে সাদ্দামের ওপর হামলা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামিম হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, বিপ্লব ও তার চাচা ফিরোজ আমাদের দলের সমর্থক। সাংবাদিক সাদ্দামকে কেউ মারেনি। সে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। বিপ্লব ও সাদ্দামের বাড়ি একই এলাকায় এবং তারা পরস্পর বন্ধু। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নিয়ে ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের কারণ থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ বলে যুবলীগ নেতা শামীম হোসেন মোল্লা দাবি করেন। তা ছাড়া সাদ্দামের বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনাও ঘটেনি।
শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়, কিন্তু তার আগেই সাদ্দামকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সাদ্দামের ওপর ন্যক্কারজক হামলায় ফুসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান জেলার সিনিয়র সাংবাদিকরা। হাসপাতালে তারা চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু, ঝিনাইদহ টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শিপলু জামান, সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান। এ ছাড়া জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিট ও মিডিয়া হাউসের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান।মন্তব্য করুন