

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বর্জনের ইঙ্গিত নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখ খুললেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। একটি সরাসরি টেলিভিশন আলোচনায় তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই অবস্থানকে আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আকরামের মতে, অন্য দেশের রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপ বর্জনের মতো বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পক্ষ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেটকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলেন, ‘বাংলাদেশ খেলতে চায় না বলে কেন পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের কথা ভাবছে? বাংলাদেশ পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এ যাবৎকালে কী করেছে? আমি এর কোনো মানে দেখি না। পাকিস্তান ক্রিকেটের উচিত নিজেদের দিকে নজর দেওয়া। খেলার ওপর মনোযোগ দাও এবং বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা করো।’
বিশ্লেষকদের মতে, আকরাম মূলত পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তার অবস্থান হলো—পাকিস্তানের উচিত বাইরের ইস্যুতে জড়িয়ে না পড়ে নিজেদের প্রস্তুতি, পারফরম্যান্স ও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই মনোযোগী থাকা।
বাংলাদেশের বাদ পড়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেন এবং সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনার কথা জানান। দল ঘোষণা করা হলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত নয়। এ বিষয়ে নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এর আগে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এখন পাকিস্তানের অবস্থানেও পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ওয়াসিম আকরামের মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তার বক্তব্য বোর্ডের আবেগপ্রবণ অবস্থানের বিপরীতে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
মন্তব্য করুন