

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত ফ্রি পড়ালেখার সু-ব্যবস্থা করব। ইনসাফের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়া মুক্তিযোদ্ধা (গোলচত্বর) মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ বা ২০২৪ এর নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে, সবখানেই ইনসাফ কায়েম করা হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ। সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। পেছনের লোকেরা পেছনে পড়ে থাকবে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথার উপর করে রাখা হবে।
হেভিওয়েট ১২ তারিখ মাপা হয়ে যাবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কক্সবাজারের অনেক আসনে নাকি হেভিওয়েট প্রার্থী আছে। তারা আমাদের প্রার্থীকে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের দাঁড়িপাল্লায় রায় দিয়ে তাদের ওজন মাপবে জনগণ।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের দাবি ছিল কাজ, বেকার ভাতা নয়। শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব- এবার এগিয়ে যাও। কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করো তুমিই বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কক্সবাজারের চারটি আসন ১১ দলকে তুলে দিলে একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন জেলা উপহার দেওয়া হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।
এর আগে, সকাল ১০টায় শুরু হয় সমাবেশে কার্যক্রম। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁও, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। মাঠে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমিন মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা হাবিব উল্লাহ।
বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সেক্রেটারি রিয়াজ মোহাম্মদ শাকিল, উখিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল ফজল, কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক খুরশিদ আলম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাঈদুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক রাইয়ান কাশেম, সিনিয়র সহসভাপতি খালিদ বিন সাঈদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র রাজ বিহারী দাশ, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেদায়াত উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন (চেয়ারম্যান), শহীদ আহসান হাবিরের চাচা মাসউদ ছিদ্দিকী, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র সরওয়ার কামাল, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর, জেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী, এলডিপি নেতা রফিকুল ইসলাম, নেজামে ইসলামীর নুরুল হক চকোরী, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাফেজ নুরুল্লাহ, মাওলানা আমিনুল হক।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ছিবগাতুল্লাহ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মো. ইব্রাহিম রনি, জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কাশেম, এনসিপি কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট একেএম শাহজালাল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী।
জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও চট্টগ্রাম বিভাগের টিম সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, কক্সবাজার সদর-রামু ও ঈদগাঁও আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও উখিয়া-টেকনাফ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের জিএস এসএম ফরহাদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
মন্তব্য করুন